বাংলা ব্যাকরণ বাংলা ভাষার ইতিহাস |
ভূমিকা |
বাংলা ভাষা বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ ও প্রাচীন ভাষাগুলোর একটি। জনসংখ্যার দিক থেকে এটি পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম মাতৃভাষা। বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসামের বরাক উপত্যকার সরকারি ভাষা হিসেবে প্রায় ৩০ কোটিরও বেশি মানুষ এই ভাষায় কথা বলেন।
সংজ্ঞা: বাংলা ভাষা বাংলা একটি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাপরিবারের ইন্দো-আর্য শাখার অন্তর্গত পূর্ব-মাগধী অপভ্রংশ থেকে উদ্ভূত আধুনিক ভাষা। এটি মাগধী প্রাকৃতের মধ্য দিয়ে বিবর্তিত হয়ে বর্তমান রূপ লাভ করেছে। |
বাংলা ভাষার ইতিহাস কেবল একটি ভাষাতাত্ত্বিক পর্যালোচনা নয়, এটি একটি জাতির সাংস্কৃতিক বিবর্তনের দলিল। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া — বাংলা ভাষার ইতিহাস গৌরবের ইতিহাস।
★ পরীক্ষায় আসে বাংলা ভাষার ক্রমবিকাশের ধাপগুলো (প্রাচীন → মধ্য → আধুনিক) এবং প্রতিটি যুগের সময়কাল BCS প্রিলিতে প্রায় প্রতিবারই আসে। এই অধ্যায়ের টেবিলগুলো বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পড়ুন। |
বাংলা ভাষার বংশপরিচয় |
বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাপরিবারের সদস্য। এই পরিবারের শাখা-প্রশাখা ধরে বাংলার অবস্থান নিচের চার্টে দেখানো হলো:
স্তর | নাম | বিবরণ |
পরিবার | ইন্দো-ইউরোপীয় | বিশ্বের বৃহত্তম ভাষাপরিবার |
শাখা | ইন্দো-ইরানীয় | দক্ষিণ এশীয় ও ইরানীয় ভাষাসমূহ |
উপশাখা | ইন্দো-আর্য | সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত ভাষাগুলো |
প্রাকৃত | মাগধী প্রাকৃত | পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত |
অপভ্রংশ | পূর্ব-মাগধী অপভ্রংশ | বাংলা, অসমীয়া, ওড়িয়ার পূর্বসূরি |
আধুনিক ভাষা | বাংলা | বর্তমান রূপ |
মাগধী প্রাকৃত কী? প্রাচীন ভারতে সংস্কৃত ভাষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে প্রাকৃত বলা হতো। মাগধী প্রাকৃত ছিল মগধ (বর্তমান বিহার) অঞ্চলের জনগণের কথ্য ভাষা। এই মাগধী প্রাকৃত থেকেই কালক্রমে বাংলা, অসমীয়া ও ওড়িয়া ভাষার জন্ম হয়। |
⚠ মনে রাখুন বাংলা ভাষা সরাসরি সংস্কৃত থেকে আসেনি। বিবর্তনের ধারা: সংস্কৃত → পালি → মাগধী প্রাকৃত → মাগধী অপভ্রংশ → বাংলা। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এবং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ উভয়েই এই ধারা নিশ্চিত করেছেন, তবে সময়কাল নিয়ে তাঁদের মতভেদ আছে। |
বাংলা ভাষার যুগবিভাজন |
বাংলা ভাষার বিবর্তনকে পণ্ডিতগণ তিনটি প্রধান যুগে ভাগ করেছেন। তবে দুই প্রধান পণ্ডিতের মধ্যে সময়কাল নিয়ে মতভেদ রয়েছে:
◆ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের যুগবিভাজন |
যুগ | সময়কাল | নিদর্শন |
প্রাচীন যুগ | ৯৫০ – ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ | চর্যাপদ |
মধ্য যুগ | ১২০০ – ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ | শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, মঙ্গলকাব্য |
আধুনিক যুগ | ১৮০০ – বর্তমান | গদ্যসাহিত্য, পত্রিকা |
◆ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর যুগবিভাজন |
যুগ | সময়কাল | নিদর্শন |
প্রাচীন যুগ | ৬৫০ – ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ | চর্যাপদ |
মধ্য যুগ | ১২০০ – ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ | শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, বৈষ্ণব পদাবলি |
আধুনিক যুগ | ১৮০০ – বর্তমান | ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের গদ্য |
★ পরীক্ষায় আসে সুনীতিকুমারের মতে প্রাচীন যুগ শুরু ৯৫০ খ্রি., শহীদুল্লাহর মতে ৬৫০ খ্রি. — এই পার্থক্য BCS-এ বারবার আসে। শহীদুল্লাহ বাংলাকে আরও পুরনো মনে করেন এবং এ বিষয়ে 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। |
প্রাচীন যুগ (৯৫০ – ১২০০ খ্রি.) |
বাংলা ভাষার প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন হলো চর্যাপদ। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নমুনা এবং বাংলা ভাষার আদি রূপের দলিল।
◆ চর্যাপদ |
বিষয় | বিবরণ |
আবিষ্কারক | মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী |
আবিষ্কারের সময় | ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দ |
আবিষ্কারের স্থান | নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার |
প্রকাশকাল | ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দ (বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ) |
প্রকাশিত গ্রন্থের নাম | হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা |
মোট পদ সংখ্যা | সাড়ে ছেচল্লিশটি (৪৬.৫ টি); মোট ৫১টি পদের মধ্যে পাওয়া গেছে ৪৬.৫ টি |
পদকর্তার সংখ্যা | ২৪ জন (মতান্তরে ২৩ জন) |
রচনাকাল | সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতক (মতভেদ আছে) |
বিষয়বস্তু | বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব, সমকালীন সমাজচিত্র |
ভাষা | সন্ধ্যা ভাষা বা আলো-আঁধারি ভাষা (সান্ধ্য ভাষা) |
ছন্দ | মাত্রাবৃত্ত ছন্দ প্রধান |
প্রথম পদকর্তা | লুইপা (লুই পাদ) |
সবচেয়ে বেশি পদ রচয়িতা | কাহ্নপা (১৩টি পদ) |
টীকাকার | মুনিদত্ত (সংস্কৃত টীকা রচনা করেন) |
সন্ধ্যা ভাষা কী? চর্যাপদের ভাষাকে 'সন্ধ্যা ভাষা' বা 'সান্ধ্য ভাষা' বলা হয়। এর অর্থ 'আলো-আঁধারি ভাষা' — অর্থাৎ এমন ভাষা যা আংশিক বোধগম্য, আংশিক দুর্বোধ্য। বৌদ্ধ সাধকেরা তাঁদের গুহ্য সাধনতত্ত্ব লুকানোর জন্য এই রহস্যময় ভাষা ব্যবহার করতেন। |
★ পরীক্ষায় আসে চর্যাপদ সম্পর্কে যেসব তথ্য বেশি আসে: আবিষ্কারক (হরপ্রসাদ শাস্ত্রী), আবিষ্কারের স্থান (নেপাল), পদ সংখ্যা (সাড়ে ৪৬), সবচেয়ে বেশি পদ রচয়িতা (কাহ্নপা), প্রথম কবি (লুইপা), ভাষার নাম (সন্ধ্যা ভাষা)। |
◆ প্রাচীন বাংলার ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য |
প্রাচীন বাংলা ভাষায় কিছু বিশেষ ধ্বনিতাত্ত্বিক ও রূপতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়:
ক) ক্রিয়াপদের শেষে '-ই', '-ইল' প্রত্যয়ের ব্যবহার
খ) অনুনাসিক ধ্বনির প্রাচুর্য
গ) সংস্কৃত শব্দের তদ্ভব রূপের প্রয়োগ
ঘ) বিভক্তি ও পরসর্গের আদি রূপ
ঙ) দ্রাবিড়, অস্ট্রিক ও তিব্বতি-বর্মী ভাষার প্রভাব
মধ্যযুগ (১২০০ – ১৮০০ খ্রি.) |
মধ্যযুগ বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ যুগ। এই সময়কালকে আবার তিনটি উপযুগে ভাগ করা হয়:
উপযুগ | সময়কাল | প্রধান সাহিত্যকর্ম |
আদি মধ্যযুগ | ১২০০ – ১৩৫০ | শ্রীকৃষ্ণকীর্তন (বড়ু চণ্ডীদাস) |
মধ্য মধ্যযুগ | ১৩৫০ – ১৫০০ | মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলি, অনুবাদ সাহিত্য |
অন্ত্য মধ্যযুগ | ১৫০০ – ১৮০০ | চৈতন্য জীবনী, পুঁথি সাহিত্য, ময়মনসিংহ গীতিকা |
⚠ অন্ধকার যুগ (Dark Age) ১২০০ থেকে ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে অনেকে বাংলা সাহিত্যের 'অন্ধকার যুগ' বলেন, কারণ এই সময়ের কোনো উল্লেখযোগ্য সাহিত্য নিদর্শন পাওয়া যায়নি। তবে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর মতে, এই সময়েও সাহিত্য রচিত হয়েছে, কেবল তা আমাদের হাতে আসেনি। |
◆ মধ্যযুগের প্রধান সাহিত্যধারাসমূহ |
সাহিত্যধারা | বিবরণ ও প্রধান নিদর্শন |
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন | বড়ু চণ্ডীদাস রচিত, মধ্যযুগের প্রথম কাব্য। আবিষ্কারক: বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ (১৯০৯), আবিষ্কারস্থান: বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রাম |
মঙ্গলকাব্য | মনসামঙ্গল (কানা হরিদত্ত, বিজয়গুপ্ত), চণ্ডীমঙ্গল (মুকুন্দরাম চক্রবর্তী), ধর্মমঙ্গল (ঘনরাম চক্রবর্তী), অন্নদামঙ্গল (ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর) |
বৈষ্ণব পদাবলি | বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস — রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা বিষয়ক |
অনুবাদ সাহিত্য | রামায়ণ (কৃত্তিবাস ওঝা), মহাভারত (কাশীরাম দাস) — সংস্কৃত মহাকাব্যের বাংলা অনুবাদ |
চৈতন্য জীবনী | চৈতন্যভাগবত (বৃন্দাবন দাস), চৈতন্যচরিতামৃত (কৃষ্ণদাস কবিরাজ), চৈতন্যমঙ্গল (লোচনদাস) |
পুঁথি সাহিত্য | আরবি-ফারসি প্রভাবিত মুসলমান কবিদের রচনা। প্রধান: দৌলত কাজী, আলাওল, সৈয়দ সুলতান, শাহ মুহম্মদ সগীর |
লোকসাহিত্য | ময়মনসিংহ গীতিকা (মহুয়া, মলুয়া, দেওয়ানা মদিনা), পূর্ববঙ্গ গীতিকা — সংগ্রাহক: দীনেশচন্দ্র সেন |
★ পরীক্ষায় আসে মঙ্গলকাব্যের ধারায় মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে 'কবিকঙ্কণ' উপাধি দেওয়া হয়। ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে 'মধ্যযুগের শেষ কবি' বলা হয়। শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের আবিষ্কারক ও আবিষ্কারস্থান প্রায়ই প্রশ্ন আসে। |
◆ মধ্যযুগের বাংলা ভাষার বৈশিষ্ট্য |
ক) আরবি-ফারসি শব্দের প্রবেশ (মুসলিম শাসনের প্রভাব)
খ) পদাবলি সাহিত্যে ব্রজবুলি ভাষার ব্যবহার (বাংলা ও মৈথিলির মিশ্রণ)
গ) পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দের ব্যাপক ব্যবহার
ঘ) সাধু ভাষারীতির ক্রমবিকাশ
ঙ) পুঁথি সাহিত্যে দোভাষী বা মিশ্র ভাষার প্রয়োগ
আধুনিক যুগ (১৮০০ – বর্তমান) |
আধুনিক বাংলা ভাষার সূচনা হয় উনিশ শতকের গোড়ায়। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা (১৮০০), ছাপাখানার প্রসার, খ্রিস্টান মিশনারিদের কার্যক্রম এবং বাংলা গদ্যের বিকাশ — এই সবকিছু মিলে আধুনিক যুগের ভিত্তি রচিত হয়।
◆ আধুনিক যুগের উপপর্ব |
উপপর্ব | সময়কাল | প্রধান বৈশিষ্ট্য ও ব্যক্তিত্ব |
গদ্যের সূচনা | ১৮০০ – ১৮৫০ | ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ, রামরাম বসু, উইলিয়াম কেরি, রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর |
বাংলা রেনেসাঁ | ১৮৫০ – ১৯০০ | বঙ্কিমচন্দ্র, মাইকেল মধুসূদন, বিদ্যাসাগর — উপন্যাস, মহাকাব্য, প্রবন্ধের বিকাশ |
রবীন্দ্র যুগ | ১৯০০ – ১৯৪০ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র, নজরুল ইসলাম — নোবেল পুরস্কার (১৯১৩) |
আধুনিক/উত্তর-আধুনিক | ১৯৪০ – বর্তমান | জীবনানন্দ দাশ, সুকান্ত, আল মাহমুদ, শামসুর রাহমান — মুক্তছন্দ, চলিত ভাষা |
◆ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ও বাংলা গদ্য |
বিষয় | তথ্য |
প্রতিষ্ঠা | ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ, কলকাতা |
প্রতিষ্ঠাতা | লর্ড ওয়েলেসলি |
বাংলা বিভাগের প্রধান | উইলিয়াম কেরি |
উদ্দেশ্য | ইংরেজ কর্মচারীদের বাংলা শেখানো; পাঠ্যবই রচনা |
প্রথম গদ্যগ্রন্থ | রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র — রামরাম বসু (১৮০১) |
গুরুত্ব | বাংলা গদ্যের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপন, পাঠ্যপুস্তক রচনার সূচনা |
★ পরীক্ষায় আসে প্রশ্ন: 'বাংলা গদ্যের জনক কে?' — ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। প্রশ্ন: 'ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ কোনটি?' — রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (রামরাম বসু)। এগুলো BCS ও ব্যাংক পরীক্ষায় নিয়মিত আসে। |
◆ সাধু ও চলিত ভাষারীতি |
আধুনিক বাংলায় দুটি প্রধান লিখিত রূপ বিদ্যমান: সাধু ভাষা ও চলিত ভাষা।
বৈশিষ্ট্য | সাধু ভাষা | চলিত ভাষা |
ক্রিয়াপদ | করিয়াছিলেন, যাইতেছে | করেছিলেন, যাচ্ছে |
সর্বনাম | তাহার, ইহা, উহা | তার, এটা, ওটা |
অনুসর্গ | হইতে, দিয়া, হইয়া | থেকে, দিয়ে, হয়ে |
প্রকৃতি | গুরুগম্ভীর, তৎসম শব্দবহুল | স্বাভাবিক, কথ্যরীতির কাছাকাছি |
ব্যবহার | প্রাচীন সাহিত্য, সংবিধান | আধুনিক সাহিত্য, দৈনন্দিন লেখা |
প্রবর্তক | ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র | প্রমথ চৌধুরী (সবুজপত্র পত্রিকা) |
★ পরীক্ষায় আসে চলিত ভাষারীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী এবং তাঁর 'সবুজপত্র' পত্রিকা (১৯১৪) — এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য BCS প্রিলি ও লিখিত দুটোতেই আসে। |
ভাষা আন্দোলন ও বাংলা ভাষার মর্যাদা |
বাংলা ভাষার ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এটি কেবল একটি ভাষার জন্য সংগ্রাম ছিল না, এটি ছিল একটি জাতির আত্মপরিচয় ও অধিকারের লড়াই।
◆ ভাষা আন্দোলনের ঘটনাপঞ্জি |
সময় | ঘটনা |
১৯৪৮, মার্চ | মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় ঘোষণা করেন 'উর্দু হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা' |
১৯৪৮ | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের প্রতিবাদ শুরু; রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন |
১৯৫২, ২৬ জানু. | খাজা নাজিমউদ্দিন পুনরায় উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করেন |
১৯৫২, ২১ ফেব্রু. | ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্ররা মিছিল করলে পুলিশ গুলি চালায়। শহিদ হন সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার প্রমুখ |
১৯৫৬ | পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় |
১৯৯৯, ১৭ নভে. | UNESCO ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে |
⚠ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস — UNESCO-র ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে (১৭ নভেম্বর ১৯৯৯) এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২০০০ সাল থেকে দিবসটি পালন শুরু হয়। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের যৌথ প্রস্তাবে এটি গৃহীত হয়। |
বাংলা লিপির বিবর্তন |
বাংলা লিপি ব্রাহ্মী লিপি থেকে বিবর্তিত হয়ে বর্তমান রূপ পেয়েছে। এই বিবর্তনের ধারা নিম্নরূপ:
লিপি | সময়কাল (আনুমানিক) | বিবরণ |
ব্রাহ্মী লিপি | খ্রি.পূ. ৩য় শতক | ভারতীয় লিপির আদিরূপ; সম্রাট অশোকের শিলালিপিতে ব্যবহৃত |
কুটিল লিপি | ৬ষ্ঠ – ৭ম শতক | উত্তর ভারতীয় ব্রাহ্মী থেকে বিকশিত |
সিদ্ধমাতৃকা/প্রাচীন বাংলা | ৮ম – ১০ম শতক | পাল যুগের তাম্রশাসন ও পুঁথিতে ব্যবহৃত |
প্রাক-বাংলা লিপি | ১১শ – ১৪শ শতক | সেন যুগ থেকে সুলতানি আমলে পরিবর্তিত রূপ |
আধুনিক বাংলা লিপি | ১৬শ শতক – বর্তমান | ছাপাখানার প্রভাবে চূড়ান্ত মানসম্মত রূপ; চার্লস উইলকিন্সের হরফ নকশা |
ছাপাখানা ও বাংলা লিপি বাংলা মুদ্রণের ইতিহাসে চার্লস উইলকিন্স সর্বপ্রথম বাংলা অক্ষরের ধাতব হরফ তৈরি করেন (১৭৭৮)। পঞ্চানন কর্মকার তাঁর সহকারী ছিলেন। ছাপাখানার ব্যবহারের ফলে বাংলা লিপি একটি স্থায়ী ও সুনির্দিষ্ট রূপ পায়। |
বাংলা ভাষায় বিভিন্ন ভাষার প্রভাব |
বাংলা ভাষা বিভিন্ন ভাষা থেকে শব্দ গ্রহণ করেছে। এই শব্দভাণ্ডারের বৈচিত্র্য বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে।
ভাষা | প্রভাবের ক্ষেত্র | উদাহরণ |
সংস্কৃত | ধর্ম, দর্শন, শিক্ষা, সাহিত্য | আকাশ, পৃথিবী, ধর্ম, কর্ম |
আরবি | ধর্ম, আইন, বিচার, প্রশাসন | আদালত, ওকিল, হাকিম, কলম, কিতাব |
ফারসি | প্রশাসন, রাজনীতি, সংস্কৃতি | দরবার, খাজনা, বাদশাহ, বেগম, দোকান |
তুর্কি | সামরিক, পোশাক, খাদ্য | চাকু, তোপ, বাবুর্চি, দারোগা |
পর্তুগিজ | দৈনন্দিন জীবন, খাদ্য, গৃহস্থালি | আলমারি, বালতি, চাবি, গির্জা, পাউরুটি, আনারস |
ইংরেজি | আধুনিক প্রযুক্তি, শিক্ষা, বিজ্ঞান | স্কুল, অফিস, টেলিফোন, কম্পিউটার |
হিন্দি/উর্দু | কথ্য ভাষা, চলচ্চিত্র | আচ্ছা, ঠিক, জিন্দাবাদ, পানি |
দ্রাবিড়/অস্ট্রিক | কৃষি, প্রকৃতি, আদিবাসী সংস্কৃতি | ডাব, ডিঙি, কুলা, চুলা, ঢোল, ঝিঙা |
★ পরীক্ষায় আসে বিদেশি শব্দের উৎস চিহ্নিতকরণ একটি কমন প্রশ্ন। বিশেষ করে পর্তুগিজ শব্দ (আলমারি, বালতি, চাবি, আনারস), তুর্কি শব্দ (চাকু, দারোগা, বাবুর্চি) এবং ফারসি শব্দ (দরবার, খাজনা) সম্পর্কে প্রশ্ন আসে। |
বাংলা ভাষার উপভাষা ও আঞ্চলিক বৈচিত্র্য |
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলা উপভাষাকে প্রধানত পাঁচটি গোষ্ঠীতে ভাগ করেছেন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুসারে এদের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন।
উপভাষা | অঞ্চল | প্রধান বৈশিষ্ট্য |
রাঢ়ী | পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম ও মধ্যভাগ | মান্য চলিত বাংলার ভিত্তি; কলকাতার ভাষা এই গোষ্ঠীভুক্ত |
বরেন্দ্রী | রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর অঞ্চল | 'অ'-ধ্বনি 'ও'-তে পরিবর্তন, বিশেষ ক্রিয়ারূপ |
বঙ্গালী | ঢাকা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী | ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনির ব্যবহার, বিশেষ শব্দভাণ্ডার |
কামরূপী | কুচবিহার, জলপাইগুড়ি, আসামের কিছু অংশ | অসমীয়া ভাষার সাথে সাদৃশ্য |
ঝাড়খণ্ডী | মানভূম, সিংভূম, ধলভূম অঞ্চল | ওড়িয়া ও হিন্দি ভাষার প্রভাব |
মান্য চলিত বাংলা বর্তমান প্রমিত বা মান্য চলিত বাংলার ভিত্তি হলো 'রাঢ়ী' উপভাষা, বিশেষত কলকাতা-নদীয়া অঞ্চলের কথ্যরীতি। তবে বাংলাদেশের মানভাষায় ঢাকার উচ্চারণ ও শব্দচয়নের প্রভাবও রয়েছে। |
বাংলা ভাষা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব |
ব্যক্তি | অবদান | উপাধি/পরিচয় |
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর | বাংলা গদ্যে যতিচিহ্ন প্রয়োগ, সাধু ভাষার পরিমার্জন | বাংলা গদ্যের জনক |
রাজা রামমোহন রায় | বাংলা ব্যাকরণ রচনা, গদ্যে তর্ক ও যুক্তির প্রয়োগ | আধুনিক ভারতের জনক |
মাইকেল মধুসূদন দত্ত | অমিত্রাক্ষর ছন্দ, সনেট, মহাকাব্য প্রবর্তন | বাংলা সনেটের জনক, মেঘনাদবধ কাব্য |
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | বাংলা উপন্যাসের প্রবর্তন, সাহিত্য সমালোচনা | সাহিত্যসম্রাট, বাংলা উপন্যাসের জনক |
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | গদ্য-পদ্যে চলিত রীতি প্রয়োগ, বিশ্বসাহিত্যে বাংলার পরিচিতি | বিশ্বকবি, নোবেল পুরস্কার ১৯১৩ |
প্রমথ চৌধুরী | চলিত ভাষারীতির প্রবর্তন, সবুজপত্র পত্রিকা সম্পাদনা | চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক |
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় | ODBL গ্রন্থে বাংলা ভাষার বৈজ্ঞানিক ইতিহাস রচনা | ভাষাতত্ত্ববিদ, ভাষার ইতিবৃত্ত রচয়িতা |
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ | বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিবর্তন গবেষণা | বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত গ্রন্থের লেখক |
প্রশ্ন ও অনুশীলনী |
1. বাংলা ভাষা কোন ভাষাপরিবারের সদস্য?
ক) সেমেটিক
খ) ইন্দো-ইউরোপীয়
গ) দ্রাবিড়
ঘ) অস্ট্রিক
✔ উত্তর: খ) ইন্দো-ইউরোপীয়
ব্যাখ্যা: বাংলা ইন্দো-ইউরোপীয় পরিবারের ইন্দো-আর্য শাখার অন্তর্গত।
2. চর্যাপদ কে আবিষ্কার করেন?
ক) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ঘ) দীনেশচন্দ্র সেন
✔ উত্তর: খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা: মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা ভাষার উদ্ভব কত সালে?
ক) ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ
খ) ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ
গ) ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
ঘ) ৪০০ খ্রিষ্টাব্দ
✔ উত্তর: খ) ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা: সুনীতিকুমার ৯৫০ বললেও শহীদুল্লাহ ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বাংলার সূচনা মনে করেন।
4. চর্যাপদের ভাষাকে কী বলা হয়?
ক) মান্য ভাষা
খ) সন্ধ্যা ভাষা
গ) পালি ভাষা
ঘ) ব্রজবুলি ভাষা
✔ উত্তর: খ) সন্ধ্যা ভাষা
ব্যাখ্যা: চর্যাপদের ভাষাকে সন্ধ্যা ভাষা বা আলো-আঁধারি ভাষা বলা হয়।
5. চলিত রীতির প্রবর্তক কে?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
গ) প্রমথ চৌধুরী
ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
✔ উত্তর: গ) প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা: প্রমথ চৌধুরী তাঁর 'সবুজপত্র' পত্রিকার (১৯১৪) মাধ্যমে চলিত ভাষারীতি প্রবর্তন করেন।
6. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক) ১৭৫৭
খ) ১৭৯৩
গ) ১৮০০
ঘ) ১৮৩৫
✔ উত্তর: গ) ১৮০০
ব্যাখ্যা: ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ১৮০০ সালে কলকাতায় লর্ড ওয়েলেসলি প্রতিষ্ঠা করেন।
7. 'বাংলা গদ্যের জনক' কাকে বলা হয়?
ক) রামমোহন রায়
খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ঘ) রামরাম বসু
✔ উত্তর: খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে যতিচিহ্ন প্রয়োগ ও সুশৃঙ্খল গদ্যরীতি চালু করায় তাঁকে 'বাংলা গদ্যের জনক' বলা হয়।
8. আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস UNESCO কত সালে ঘোষণা করে?
ক) ১৯৫২
খ) ১৯৭১
গ) ১৯৯৯
ঘ) ২০০০
✔ উত্তর: গ) ১৯৯৯
ব্যাখ্যা: UNESCO ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে।
9. চর্যাপদে সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেছেন কে?
ক) লুইপা
খ) কাহ্নপা
গ) সরহপা
ঘ) ভুসুকুপা
✔ উত্তর: খ) কাহ্নপা
ব্যাখ্যা: কাহ্নপা সবচেয়ে বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন। তবে প্রথম কবি হিসেবে ধরা হয় লুইপাকে।
10. 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচয়িতা কে?
ক) জ্ঞানদাস
খ) বিদ্যাপতি
গ) বড়ু চণ্ডীদাস
ঘ) গোবিন্দদাস
✔ উত্তর: গ) বড়ু চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মধ্যযুগের প্রথম কাব্য, রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
11. 'আলমারি' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
ক) ফারসি
খ) আরবি
গ) পর্তুগিজ
ঘ) তুর্কি
✔ উত্তর: গ) পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা: আলমারি (armário), বালতি (balde), চাবি (chave), আনারস (ananás) — সবই পর্তুগিজ শব্দ।
12. বাংলা উপভাষার কোন গোষ্ঠী মান্য চলিত বাংলার ভিত্তি?
ক) বরেন্দ্রী
খ) বঙ্গালী
গ) রাঢ়ী
ঘ) কামরূপী
✔ উত্তর: গ) রাঢ়ী
ব্যাখ্যা: রাঢ়ী উপভাষা, বিশেষত কলকাতা-নদীয়া অঞ্চলের কথ্যরীতি মান্য চলিত বাংলার ভিত্তি।
13. বাংলা লিপির উৎস কোন লিপি?
ক) দেবনাগরী
খ) খরোষ্ঠী
গ) ব্রাহ্মী
ঘ) আরবি
✔ উত্তর: গ) ব্রাহ্মী
ব্যাখ্যা: বাংলা লিপি ব্রাহ্মী লিপি থেকে কুটিল লিপি হয়ে বিবর্তিত হয়ে বর্তমান রূপ পেয়েছে।
14. ভাষা আন্দোলনে কত তারিখে পুলিশ গুলি চালায়?
ক) ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
খ) ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
গ) ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
ঘ) ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
✔ উত্তর: খ) ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
ব্যাখ্যা: ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়।
15. বাংলায় প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ কোনটি?
ক) অন্নদামঙ্গল
খ) বেতালপঞ্চবিংশতি
গ) রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
ঘ) কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
✔ উত্তর: ঘ) কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
ব্যাখ্যা: পর্তুগিজ মিশনারিদের দ্বারা প্রকাশিত 'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' (১৭৪৩) বাংলায় প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ।
এক নজরে বাংলা ভাষার ইতিহাস |
বিষয় | মূল তথ্য |
ভাষাপরিবার | ইন্দো-ইউরোপীয় > ইন্দো-আর্য |
উৎস | মাগধী প্রাকৃত → পূর্ব-মাগধী অপভ্রংশ → বাংলা |
প্রাচীন যুগ | ৯৫০–১২০০ খ্রি. (সুনীতিকুমার) / ৬৫০–১২০০ খ্রি. (শহীদুল্লাহ) |
প্রাচীন নিদর্শন | চর্যাপদ — আবিষ্কারক হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৯০৭), নেপাল থেকে |
মধ্যযুগ | ১২০০–১৮০০ খ্রি.; মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলি, পুঁথি সাহিত্য |
আধুনিক যুগ | ১৮০০–বর্তমান; ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ, গদ্যের বিকাশ |
গদ্যের জনক | ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর |
চলিত রীতির প্রবর্তক | প্রমথ চৌধুরী (সবুজপত্র পত্রিকা, ১৯১৪) |
ভাষা আন্দোলন | ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ — শহিদ সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার |
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস | UNESCO ঘোষণা ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯; পালন শুরু ২০০০ |
লিপির উৎস | ব্রাহ্মী লিপি → কুটিল → আধুনিক বাংলা |
মান্য ভাষার ভিত্তি | রাঢ়ী উপভাষা (কলকাতা-নদীয়া) |