যৌগিক শব্দ, রুঢ়ি শব্দ ও যোগরুঢ় শব্দ

Chapter Activity

Rating
New / 5
Reviews
0
Read Sessions
0
Readers
0

যৌগিক শব্দ, রূঢ়ি শব্দযোগরূঢ় শব্দ

এই অধ্যায়ে বাংলা ব্যাকরণের অর্থভিত্তিক শব্দশ্রেণি যৌগিক, রূঢ়িযোগরূঢ় কে ব্যুৎপত্তি, প্রচলিত অর্থ, সমাস, সাহিত্যিক ব্যবহার, পরীক্ষার ফাঁদ, তুলনামূলক পার্থক্য, উদাহরণভান্ডার এবং অনুশীলনীসহ সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

মনে রাখার মূল সূত্র

শব্দের অংশগুলোর অর্থ মিলিয়ে যদি মোট অর্থ সহজে পাওয়া যায়, তা সাধারণত যৌগিক।

শব্দকে ভাঙলেও যদি সেই ভাঙা অংশ দিয়ে প্রচলিত অর্থ নির্ণয় করা না যায়, তা রূঢ়ি।

ভাঙা যায় এবং সাধারণ অর্থও সম্ভব, কিন্তু ব্যবহারে যদি একটি বিশেষ অর্থে স্থির হয়ে যায়, তা যোগরূঢ়।

১. ব্যুৎপত্তি, প্রচলিত অর্থ ও অর্থশ্রেণি

বাংলা ব্যাকরণে কোনো শব্দকে কেবল তার বানান দেখে বিচার করা যথেষ্ট নয়; দেখতে হয় শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে, এবং আরও বেশি দেখতে হয় শব্দটির প্রচলিত অর্থ তার গঠনাংশের অর্থের সঙ্গে কতখানি মেলে। এই অর্থভিত্তিক বিচারের জায়গাতেই “যৌগিক”, “রূঢ়ি” ও “যোগরূঢ়” শব্দের আলোচনা আসে।

এখানে “ব্যুৎপত্তি” বলতে বোঝানো হচ্ছে শব্দের গঠনগত উৎস বা ভাঙন; আর “প্রচলিত অর্থ” বলতে বোঝানো হচ্ছে ভাষায় বহুল ব্যবহৃত বাস্তব অর্থ। বহু ক্ষেত্রে এই দুইটি এক হয়, বহু ক্ষেত্রে আলাদা হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ থেকে সরে গিয়ে শব্দটি বিশেষ একটি অর্থে স্থির হয়ে যায়।

অতএব, এই অধ্যায়ের মূল প্রশ্ন তিনটি: (ক) শব্দটি ভাঙা যায় কি না, (খ) ভাঙা অংশের অর্থ দিয়ে মোট অর্থ বোঝা যায় কি না, এবং (গ) বোঝা গেলেও শব্দটি কি বিশেষ কোনো অর্থে স্থির হয়ে গেছে? এই তিন প্রশ্নের উত্তরই শব্দকে যৌগিক, রূঢ়ি বা যোগরূঢ় হিসেবে শনাক্ত করতে সাহায্য করে।

পরীক্ষায় কেন এই টপিক গুরুত্বপূর্ণ

একই ধরনের শব্দকে তিন শ্রেণির একটিতে ফেলতে হয় এখানে সূক্ষ্ম পার্থক্য ধরতে না পারলে নম্বর কাটা যায়।

সমাস, ব্যুৎপত্তি, প্রতিশব্দ, কাব্যভাষা ও পৌরাণিক শব্দভান্ডারের সঙ্গে এই অংশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে।

বিসিএস, শিক্ষক নিবন্ধন, ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও স্কুল-কলেজের ব্যাকরণ অংশে এ ধরনের প্রশ্ন ঘন ঘন আসে।

১.১ মৌলিক পরিভাষা

আলোচ্য বিষয়

সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত

ব্যুৎপত্তিগত অর্থ

শব্দের অংশবিশ্লেষণ করে পাওয়া অর্থ; যেমন পঙ্কজ = পঙ্কে জন্মে এমন।

প্রচলিত অর্থ

ভাষায় স্বীকৃত বাস্তব অর্থ; যেমন পঙ্কজ = পদ্ম।

অর্থের স্বচ্ছতা

গঠনাংশের অর্থ থেকে শব্দের মোট অর্থ কত সহজে বের করা যায়।

বিশেষায়িত প্রচলন

সাধারণ অর্থ সম্ভব হলেও একটি নির্দিষ্ট অর্থে শব্দের ব্যবহার স্থির হয়ে যাওয়া।

অর্থশ্রেণি

শব্দকে অর্থের ভিত্তিতে যে দলে ফেলা হয় যৌগিক, রূঢ়ি, যোগরূঢ় ইত্যাদি

১.২ একটি সহজ উদাহরণে তিনটি ধারণা

একই কাঠামোয় তিন ভিন্ন প্রকৃতি

শব্দ

শ্রেণি

কেন

মাতৃভাষা

যৌগিক

মায়ের ভাষা/নিজ মাতৃসমাজের ভাষা অংশের অর্থ থেকেই মোট অর্থ স্পষ্ট।

নদী

রূঢ়ি

একে ভেঙে ব্যবহারিক অর্থ পাওয়া যায় না; প্রচলিত অর্থেই শব্দটি ধরা হয়।

পঙ্কজ

যোগরূঢ়

পঙ্কে জন্মায় এমন যে কোনো বস্তুকে বোঝাতে পারত; কিন্তু ব্যবহারে “পদ্ম” অর্থে স্থির।

২. যৌগিক শব্দ

যে শব্দের গঠনাংশগুলোর অর্থ মিলিয়ে মোট অর্থ সহজে বোঝা যায়, তাকে যৌগিক শব্দ বলা হয়। এখানে অংশ ও সমগ্রের মধ্যে অর্থগত সংযোগ স্বচ্ছ থাকে। অর্থাৎ, শব্দটি ভাঙলে যে অর্থ পাওয়া যায়, প্রচলিত ব্যবহারেও সাধারণত সেই অর্থই বজায় থাকে।

যৌগিক শব্দে “যোগ” বা সংযুক্তির ধারণা সক্রিয় থাকে। দুটি বা ততোধিক শব্দ, শব্দমূল, উপসর্গ, বা বিশেষ গঠনপ্রকরণ যুক্ত হয়ে যে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তার অর্থ যদি সেই উপাদানগুলোর অর্থের সমন্বয়ে ধরা যায়, তাহলে তা যৌগিক।

২.১ যৌগিক শব্দের লক্ষণ

শব্দটিকে ভাঙলে গঠনাংশগুলো অর্থবহ থাকে।

গঠনাংশগুলোর অর্থ যোগ করলে মোট অর্থ পাওয়া যায় বা খুব কাছাকাছি পাওয়া যায়।

অর্থটি কোনো একক বিশেষ বস্তুর জন্য একচেটিয়াভাবে বন্ধী হয়ে যায় না।

দৈনন্দিন ভাষা, প্রাতিষ্ঠানিক ভাষা, প্রশাসনিক পরিভাষা, বিজ্ঞানের পরিভাষা সব ক্ষেত্রেই যৌগিক শব্দ প্রচুর।

যৌগিক শব্দ প্রায়ই সমাসবদ্ধ হয়, তবে বিচারটি মূলত অর্থভিত্তিক শুধু সমাস জানলেই যথেষ্ট নয়।

২.২ যৌগিক শব্দ চেনার সহজ কৌশল

প্রথমে শব্দটি ভাঙুন।

তারপর ভাঙা অংশগুলোর অর্থ লিখুন।

দেখুন, এই অর্থগুলো মিলিয়ে প্রচলিত অর্থ পাওয়া যাচ্ছে কি না।

যদি পাওয়া যায় এবং শব্দটি বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট বস্তু/ব্যক্তির নাম হয়ে না যায়, তবে সেটি যৌগিক।

২.৩ দৈনন্দিন ও শিক্ষাবিষয়ক যৌগিক শব্দ

শব্দ

অর্থ

হাতঘড়ি

হাত + ঘড়ি

হাতে পরা হয় এমন ঘড়ি

হাতপাখা

হাত + পাখা

হাতে ধরা পাখা

জলপাত্র

জল + পাত্র

জল রাখার পাত্র

জলধারা

জল + ধারা

জলের প্রবাহ

বইমেলা

বই + মেলা

বইকে কেন্দ্র করে মেলা

গৃহকর্ম

গৃহ + কর্ম

বাড়ির কাজ

গ্রামবাসী

গ্রাম + বাসী

গ্রামে বসবাসকারী

পথচারী

পথ + চারী

পথে চলাচলকারী

জন্মভূমি

জন্ম + ভূমি

যে ভূমিতে জন্ম

মাতৃভাষা

মাতৃ + ভাষা

মায়ের/মাতৃসমাজের ভাষা

রাষ্ট্রভাষা

রাষ্ট্র + ভাষা

রাষ্ট্রের সরকারি ভাষা

কর্মক্ষেত্র

কর্ম + ক্ষেত্র

কাজের ক্ষেত্র

২.৪ প্রাতিষ্ঠানিক ও সাহিত্যিক ব্যবহারের যৌগিক শব্দ

শব্দ

অর্থ

রাজপথ

রাজ + পথ

প্রধান/বৃহৎ সড়ক

বিদ্যালয়

বিদ্যা + আলয়

বিদ্যার স্থান

ভাষাবিজ্ঞান

ভাষা + বিজ্ঞান

ভাষা-বিষয়ক বিজ্ঞান

মনোবিজ্ঞান

মন + বিজ্ঞান

মনের বিজ্ঞান

কৃষিজমি

কৃষি + জমি

চাষাবাদের জমি

নৌপথ

নৌ + পথ

নৌযানে চলার পথ

পরীক্ষাকক্ষ

পরীক্ষা + কক্ষ

পরীক্ষার ঘর

শ্রেণিকক্ষ

শ্রেণি + কক্ষ

ক্লাস করার ঘর

রক্তচাপ

রক্ত + চাপ

রক্তের চাপ

জীবনসংগ্রাম

জীবন + সংগ্রাম

জীবনযুদ্ধ

দেশপ্রেম

দেশ + প্রেম

দেশের প্রতি প্রেম

লোকসাহিত্য

লোক + সাহিত্য

লোকসমাজের সাহিত্য

২.৫ যুগ্ম/সমষ্টিবোধক যৌগিক শব্দ

শব্দ

অর্থ

ফলমূল

ফল + মূল

ফল ও মূলজাত খাদ্য; উভয়ের সমষ্টি

ঘরবাড়ি

ঘর + বাড়ি

গৃহসম্পদ/বাসস্থানসমূহ

পথঘাট

পথ + ঘাট

চলাচলের স্থানসমূহ

সুখদুঃখ

সুখ + দুঃখ

আনন্দবেদনা উভয় অবস্থা

রাতদিন

রাত + দিন

সারাক্ষণ

দেশবিদেশ

দেশ + বিদেশ

স্বদেশবিদেশ সব জায়গা

খাওয়াদাওয়া

খাওয়া + দাওয়া

আহার-সংক্রান্ত সব আয়োজন

লেনদেন

লেন + দেন

গ্রহণ ও প্রদানসংক্রান্ত কার্য

কেনাবেচা

কেনা + বেচা

ক্রয়-বিক্রয়

ধরাধাম

ধরা + ধাম

পৃথিবী/মানবজগ প্রসঙ্গভেদে; সাধারণ অর্থে গঠিত বোঝা যায়

যৌগিক শব্দ সম্পর্কে সতর্কতা

সব ভাঙা-যায়-এমন শব্দ যৌগিক নয়; কিছু শব্দ যোগরূঢ়ও হতে পারে।

যেমন পঙ্কজভাঙা যায়, কিন্তু তা কেবল “পদ্ম” অর্থে স্থির; তাই এটি যৌগিক নয়, যোগরূঢ়।

যে শব্দে ভাঙন আছে কিন্তু প্রচলিত অর্থ একেবারেই আলাদা, সেখানে রূঢ়ি বা যোগরূঢ় বিচার করতে হবে।

৩. রূঢ়ি শব্দ

যে শব্দের অর্থ ব্যুৎপত্তিগত ভাঙন ধরে সাধারণ ব্যবহারিক অর্থ বের করা যায় না, বরং প্রচলিত ব্যবহার থেকেই অর্থ জানতে হয়, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলা হয়। “রূঢ়ি” মানে প্রচলিত বা প্রতিষ্ঠিত ব্যবহার। এখানে শব্দটির অর্থ ভাষাসমাজে স্বীকৃত হয়ে গেছে; শব্দটি শোনামাত্র যে অর্থ মনে আসে, সেটিই মুখ্য।

রূঢ়ি শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো শব্দটির অর্থ ধরতে ভাঙন দরকার হয় না; অনেক সময় ভাঙন করাই যায় না, বা গেলেও সেই ভাঙন প্রচলিত অর্থ বোঝাতে সাহায্য করে না। অর্থাৎ গঠনগত বিশ্লেষণ নয়, সামাজিকভাবে গৃহীত ব্যবহারই এখানে নির্ণায়ক।

৩.১ রূঢ়ি শব্দের লক্ষণ

শব্দটির অর্থ সাধারণত অভিধানগত/প্রচলিত অর্থে সরাসরি জানা যায়।

ভাঙা অংশের সাহায্যে মোট অর্থ নির্ণয় করা যায় না, বা সেই ভাঙন বর্তমান ভাষাবোধে কার্যকর নয়।

বহু মৌলিক, ঐতিহ্যবাহী, ধার করা বা দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত শব্দ রূঢ়ি-ধর্মী হয়ে যায়।

রূঢ়ি শব্দে “বিশেষ অর্থে স্থির হয়ে যাওয়া”র চেয়ে “প্রচলিত একক অর্থ” বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

৩.২ দৈনন্দিন রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ

শব্দ

কেন রূঢ়ি

নদী

প্রচলিত অর্থেই বোঝা যায়; ব্যবহারিক ভাঙন কার্যকর নয়।

পাহাড়

সরাসরি একটি প্রাকৃতিক বস্তুকে বোঝায়।

আকাশ

ভাঙন নয়, প্রচলিত অর্থ মুখ্য।

সাগর

প্রচলিত একক অর্থে ব্যবহৃত।

বন

অরণ্য অর্থে রূঢ়।

মানুষ

মানবসত্তা বোঝাতে প্রতিষ্ঠিত।

ঘোড়া

একটি প্রাণীর নাম; গঠনভিত্তিক বিশ্লেষণ সাধারণত কাজে লাগে না।

পাখি

উড়ন্ত প্রাণীর সাধারণ নাম হিসেবে রূঢ়।

কাগজ

প্রচলিত বস্তুবাচক শব্দ।

কলম

লেখার উপকরণ রূঢ় অর্থে ব্যবহৃত

চাবি

তালা খোলার বস্তু; ভাঙন প্রয়োজন নেই।

দরজা

প্রবেশপথের খোলা-বন্ধ দরজা প্রচলিত অর্থে স্থির

৩.৩ তৎসম, প্রমিত ও ধার করা রূঢ়ি শব্দ

শব্দ

ব্যাখ্যা

কোকিল

একটি পাখির নাম হিসেবে প্রচলিত; অংশভিত্তিক অর্থ সক্রিয় নয়।

কমল

পদ্ম/মসৃণ/নরম ইত্যাদি অর্থে প্রচলিত; বর্তমান ব্যবহারে একক অভিধানগত মানে মুখ্য।

কুশল

মঙ্গল/ভালোমন্দের খবর/দক্ষতা প্রচলিত অর্থে বোঝা হয়

অশ্ব

ঘোড়া অর্থে রূঢ় তৎসম শব্দ।

গুরু

শিক্ষক/গুরুজন/ভারী প্রচলনের ওপর নির্ভরশীল একক অর্থবোধক ব্যবহার।

শহর

নগর অর্থে প্রতিষ্ঠিত।

বাজার

বেচাকেনার স্থান; বিশ্লেষণ করে নয়, প্রচলিত অর্থে বোঝা যায়।

স্কুল

প্রাতিষ্ঠানিক নাম; ধার করা শব্দ হলেও ব্যবহারিকভাবে রূঢ়।

কলেজ

একক প্রতিষ্ঠানবাচক অর্থে প্রচলিত।

অফিস

কর্মালয় অর্থে প্রচলিত ধার করা শব্দ।

গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

রূঢ়ি শব্দের তালিকা অসীম; অভিধানের অধিকাংশ সাধারণ শব্দই রূঢ়ি-ধর্মী।

যে শব্দের অর্থ বুঝতে আলাদা ভাঙন দরকার হয় না, এবং ভাঙন করলেও বর্তমান প্রচলিত অর্থ পাওয়া যায় না সেখানে রূঢ়ি বিচার বেশি নিরাপদ।

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় রূঢ়ি উদাহরণ হিসেবে অনেক সময় সাধারণ শব্দ দেওয়া হয় সেখানে অতিরিক্ত ব্যুৎপত্তি খুঁজতে যাওয়া ভুল হতে পারে।

৪. যোগরূঢ় শব্দ

যে শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ আছে, অর্থাৎ ভাঙলে একটি সাধারণ অর্থ পাওয়া যায়, কিন্তু ভাষায় ব্যবহৃত হতে হতে তা কোনো বিশেষ বস্তু, ব্যক্তি, সত্তা, দেবতা, স্থান, ফুল, গ্রহ বা নির্দিষ্ট অর্থে স্থির হয়ে গেছে তাকে যোগরূঢ় শব্দ বলে। এখানে “যোগ” আছে, কারণ শব্দটি গঠনগতভাবে বিশ্লেষণযোগ্য; আবার “রূঢ়ি”ও আছে, কারণ প্রচলনে তা বিশেষার্থে প্রতিষ্ঠিত।

অর্থাৎ যোগরূঢ় শব্দ হলো যৌগিকরূঢ়ি এই দুই বৈশিষ্ট্যের মধ্যবর্তী এক বিশেষ অবস্থা। ভাঙলে সাধারণ অর্থ পাওয়া যায়; কিন্তু বাস্তবে শব্দটি সবসময় সেই সাধারণ অর্থে ব্যবহৃত হয় না, বরং একটি বিশেষ পরিচিত অর্থে ব্যবহৃত হয়। এই বিশেষার্থই একে যোগরূঢ় করে।

৪.১ যোগরূঢ় শব্দের লক্ষণ

শব্দটি ভাঙা যায়; অংশগুলো অর্থবহ।

ভাঙা অংশের সাহায্যে একটি সাধারণ অর্থ পাওয়া যায়।

কিন্তু ব্যবহারিক ভাষায় শব্দটি একটি নির্দিষ্ট বিশেষ অর্থে সুপরিচিত।

সাহিত্য, পুরাণ, কাব্যভাষা, প্রতিশব্দচর্চা ও অলংকারময় ভাষায় যোগরূঢ় শব্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৪.২ পদ্ম-জাত প্রতিশব্দধর্মী যোগরূঢ় শব্দ

শব্দ

ব্যুৎপত্তিগত অর্থ

প্রচলিত বিশেষ অর্থ

পঙ্কজ

পঙ্ক + জ

কাদায় জন্মে যা

পদ্ম

অম্বুজ

অম্বু + জ

জলে জন্মে যা

পদ্ম

বারিজ

বারি + জ

জলে জন্মে যা

পদ্ম

সরোজ

সরঃ + জ

হ্রদে জন্মে যা

পদ্ম

নলিনী

নলিন + ঈ

নল/জলাশয়-সংযুক্ত

পদ্ম/পদ্মিনী অর্থে বিশেষ ব্যবহার

কমলিনী

কমল + ইনী

কমলসম্পর্কিত

পদ্মফুলসমৃদ্ধা/পদ্মিনী বিশেষ প্রয়োগ

৪.৩ প্রকৃতি ও জগত্‌সংক্রান্ত যোগরূঢ় শব্দ

শব্দ

ব্যুৎপত্তিগত অর্থ

প্রচলিত বিশেষ অর্থ

দিবাকর

দিবা + কর

দিন সৃষ্টিকারী/দিনের কর্তা

সূর্য

শশধর

শশ + ধর

শশকধারী

চন্দ্র

মৃগাঙ্ক

মৃগ + অঙ্ক

হরিণ/শশকচিহ্নযুক্ত

চন্দ্র

নিশাকর

নিশা + কর

রাত্রির কর্তা

চন্দ্র

জলধর

জল + ধর

জল ধারণকারী

মেঘ

নীরদ

নীর + দ

জল দানকারী

মেঘ

হিমালয়

হিম + আলয়

বরফের আলয়

হিমালয় পর্বতমালা

রজনীগন্ধা

রজনী + গন্ধা

রাতে সুগন্ধ ছড়ায় যা

একটি বিশেষ ফুল

৪.৪ দেবদেবী, পৌরাণিক চরিত্র ও কাব্যভাষার যোগরূঢ় শব্দ

শব্দ

ব্যুৎপত্তিগত অর্থ

প্রচলিত বিশেষ অর্থ

ত্রিলোচন

ত্রি + লোচন

তিনটি চোখবিশিষ্ট

শিব

চতুরানন

চতুর + আনন

চারমুখবিশিষ্ট

ব্রহ্মা

লম্বোদর

লম্ব + উদর

দীর্ঘ/বড় উদরযুক্ত

গণেশ

দশানন

দশ + আনন

দশমাথা/দশমুখবিশিষ্ট

রাবণ

গিরিজা

গিরি + জা

পর্বতজাত/পর্বতের কন্যা

পার্বতী

পীতাম্বর

পীত + আম্বর

হলুদ বস্ত্রপরিহিত

কৃষ্ণ/বিষ্ণু বিশেষ কাব্যিক প্রয়োগে

চক্রপাণি

চক্র + পাণি

চক্রধারী

বিষ্ণু

জনকনন্দিনী

জনক + নন্দিনী

জনকের কন্যা

সীতা

৪.৫ অন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগরূঢ় শব্দ

শব্দ

ভাঙন

ব্যুৎপত্তিগত অর্থ

প্রচলিত বিশেষ অর্থ

রাজহাঁস

রাজ + হাঁস

রাজসিক/শ্রেষ্ঠ হাঁস

একটি বিশেষ পাখি; সাধারণ হাঁস নয়

নীলকণ্ঠ

নীল + কণ্ঠ

নীল গলা-যুক্ত

শিব; আবার একটি বিশেষ পাখির নামও

ধনঞ্জয়

ধন + জয়

ধন জয় করে যে

অর্জুন

দ্বিজ

দ্বি + জ

দুইবার জন্মেছে যে

ব্রাহ্মণ; আবার পাখির ক্ষেত্রেও কাব্যিক প্রয়োগ আছে

দিকপাল

দিক + পাল

দিকের রক্ষক

বিশেষ দেবসমষ্টি

ঘনশ্যাম

ঘন + শ্যাম

গাঢ় শ্যামবর্ণ

কৃষ্ণ কাব্যে বিশেষ অর্থে

যোগরূঢ় বোঝার কেন্দ্রীয় সূত্র

যৌগিকের মতো ভাঙা যায়, কিন্তু যৌগিকের মতো সব জায়গায় সাধারণ অর্থে ব্যবহৃত হয় না।

রূঢ়ির মতো বিশেষ অর্থে স্থির, কিন্তু রূঢ়ির মতো সম্পূর্ণ অবিভাজ্য নয়।

অতএব: “ব্যুৎপত্তি আছে + বিশেষার্থে স্থির” = যোগরূঢ়।

৫. তিনটির তুলনামূলক পার্থক্য

৫.১ টেবিলভিত্তিক তুলনা

বিচার্য বিষয়

যৌগিক

রূঢ়ি

যোগরূঢ়

অর্থ নির্ণয়ের ভিত্তি

গঠনাংশের অর্থ থেকে মোট অর্থ বোঝা যায়

প্রচলিত অর্থই মুখ্য

গঠনাংশের অর্থ আছে, কিন্তু প্রচলিত বিশেষ অর্থ মুখ্য

ভাঙন

সক্রিয়ভাবে অর্থবহ

ভাঙন অকার্যকর বা অপ্রয়োজনীয়

ভাঙন আছে এবং অর্থবহ

অর্থের স্বচ্ছতা

স্বচ্ছ

অস্বচ্ছ/অব্যুৎপত্তিগত

আংশিক স্বচ্ছ, কিন্তু বিশেষায়িত

বিশেষ নির্দিষ্ট অর্থে স্থিরতা

সাধারণত না

শব্দটি নিজেই প্রচলিত অর্থে স্থির

হ্যাঁ; সাধারণ অর্থ থেকে বিশেষ অর্থে স্থির

উদাহরণ

মাতৃভাষা, রাজপথ, জলপাত্র

নদী, আকাশ, কাগজ

পঙ্কজ, দিবাকর, ত্রিলোচন

পরীক্ষার দ্রুত সূত্র

অংশের অর্থ যোগ করুন

অভিধানগত অর্থ নিন

অংশের অর্থ + বিশেষ পরিচিত অর্থ মিলিয়ে দেখুন

৫.২ এক নজরে শ্রেণিবিন্যাস

দ্রুত শ্রেণি নির্ধারণের নমুনা

শব্দ

শ্রেণি

এক লাইনের কারণ

হাতপাখা

যৌগিক

হাতে ধরা পাখা অংশের অর্থ থেকেই বোঝা যায়।

কলম

রূঢ়ি

গঠনভিত্তিক ভাঙন নয়, প্রচলিত অর্থেই বোঝা যায়।

জলধর

যোগরূঢ়

জল ধারণকারী যে-কোনো বস্তু নয়; কাব্যভাষায় “মেঘ” অর্থে স্থির।

রাষ্ট্রভাষা

যৌগিক

রাষ্ট্রের ভাষা সরাসরি বোধগম্য

শশধর

যোগরূঢ়

শশকধারী ব্যুৎপত্তিগত অর্থ থাকলেওচন্দ্র” অর্থে স্থির।

আকাশ

রূঢ়ি

প্রচলিত অর্থ ছাড়া ভাঙন কার্যকর নয়।

৬. সমাসের সঙ্গে সম্পর্ক

সমাস হলো শব্দগঠনের ব্যাকরণিক প্রক্রিয়া; আর যৌগিক, রূঢ়ি, যোগরূঢ় হলো অর্থশ্রেণি। তাই সমাস ও অর্থশ্রেণিকে এক করে ফেললে ভুল হবে। একটি সমাসবদ্ধ শব্দ অর্থের দিক থেকে যৌগিক হতে পারে, আবার যোগরূঢ়ও হতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে “মাতৃভাষা” একটি সমাসবদ্ধ শব্দ এবং অর্থের দিক থেকে যৌগিক; কিন্তু “পঙ্কজ”ও সমাসবদ্ধ/ব্যুৎপত্তিগতভাবে বিশ্লেষণযোগ্য, অথচ অর্থের দিক থেকে যোগরূঢ়। তাই পরীক্ষায় কেবল সমাসের নাম জানলেই হবে না, প্রচলিত অর্থও দেখতে হবে।

৬.১ সমাস ও অর্থশ্রেণির সম্পর্ক

শব্দ

গঠনগত দিক

অর্থগত শ্রেণি

কারণ

মাতৃভাষা

সমাসবদ্ধ

যৌগিক

ভাঙা অংশের অর্থ থেকেই মোট অর্থ স্পষ্ট।

রাজপথ

সমাসবদ্ধ

যৌগিক

প্রধান পথ/বৃহসড়ক গঠিত অর্থ কার্যকর

পঙ্কজ

সমাসবদ্ধ/ব্যুৎপত্তিযোগ্য

যোগরূঢ়

পঙ্কে জন্মানো যেকোনো জিনিস নয়; পদ্ম অর্থে স্থির।

জলধর

সমাসবদ্ধ/ব্যুৎপত্তিযোগ্য

যোগরূঢ়

জলধারী সবকিছু নয়; কাব্যে মেঘ অর্থে স্থির।

নদী

সমাসবদ্ধ নয়

রূঢ়ি

প্রচলিত একক অর্থে বোঝা যায়।

৭. সাহিত্যিক ব্যবহার ও ব্যাকরণগত গুরুত্ব

সাহিত্যিক ভাষায় বিশেষত কবিতা, কাব্যনাট্য, পুরাণভিত্তিক রচনা, ভক্তিগীতি, মঙ্গলকাব্যধর্মী ভাষা এবং অলংকারময় গদ্যে যোগরূঢ় শব্দের ব্যবহার অনেক বেশি। কারণ এই ধরনের শব্দ অর্থকে শুধু নির্দেশ করে না; সঙ্গে আবহ, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও কাব্যিক সৌন্দর্যও বহন করে। “পঙ্কজ”, “দিবাকর”, “শশধর”, “ত্রিলোচন”, “চক্রপাণি”, “জনকনন্দিনী” ইত্যাদি শব্দ তাই কাব্যে অত্যন্ত কার্যকর।

অন্যদিকে, প্রবন্ধ, সংবাদ, প্রশাসনিক ভাষা, বিজ্ঞানবিষয়ক লেখা, পাঠ্যবই ও দৈনন্দিন যোগাযোগে যৌগিক শব্দের ব্যবহার বেশি। কারণ এগুলো অর্থে স্বচ্ছ এবং তথ্যবহ। “রাষ্ট্রভাষা”, “পরীক্ষাকক্ষ”, “রক্তচাপ”, “ভাষাবিজ্ঞান”, “নৌপথ”, “জন্মভূমি” ইত্যাদি শব্দ পাঠকের কাছে দ্রুত অর্থ পৌঁছে দেয়।

রূঢ়ি শব্দ আবার ভাষার মৌলিক ভিত্তি গড়ে তোলে। দৈনন্দিন বস্তু, প্রাণী, মানুষ, পরিবেশ, সম্পর্ক, ক্রিয়া ও অভিজ্ঞতার অসংখ্য প্রচলিত শব্দ রূঢ়ি-ধর্মী। তাই ভাষায় রূঢ়ি শব্দ না থাকলে মৌলিক যোগাযোগই অসম্ভব হয়ে যেত।

৮. বিভ্রান্তিকর ও প্রসঙ্গনির্ভর শব্দ

এই অংশটি পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে জরুরি। অনেক শব্দ প্রসঙ্গভেদে ভিন্ন শ্রেণিতে পড়তে পারে। শব্দটিকে “শুধু অভিধান দেখে” নয়, বাক্যে কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে তা দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

৮.১ একই শব্দ প্রসঙ্গভেদে ভিন্ন বিচার

শব্দ/প্রয়োগ

শ্রেণি

কারণ

নীলকণ্ঠ যুবক

যৌগিক

নীল কণ্ঠবিশিষ্ট এক যুবক অর্থ সরাসরি গঠনাংশে ধরা যায়।

নীলকণ্ঠ পাখি

যোগরূঢ়

একটি নির্দিষ্ট পাখির নাম হিসেবে স্থির।

নীলকণ্ঠ শিব

যোগরূঢ়

শিবের বিশেষ উপাধি হিসেবে স্থির।

রাজহাঁসদল

যোগরূঢ়-ধর্মী

নির্দিষ্ট এক পাখিপ্রজাতির নাম শ্রেষ্ঠ হাঁস নয়

পদ্মফুল

যৌগিক

পদ্ম নামের ফুল সরাসরি অর্থবোধক

পঙ্কজ

যোগরূঢ়

পঙ্কে জন্মে সাধারণ অর্থ নয়; পদ্ম অর্থে স্থির।

৮.২ ভুল করার সাধারণ কারণ

ভাঙা যায় বলেই শব্দকে যৌগিক ধরে নেওয়া।

কাব্যিক প্রতিশব্দকে সাধারণ যৌগিক মনে করা।

সমাসের নাম জানলেই অর্থশ্রেণি জানা হয়ে গেছে এমন ভুল ধারণা

প্রসঙ্গভেদে অর্থের পরিবর্তন খেয়াল না করা।

৯. দ্রুত মনে রাখার সূত্র

তিন-ধাপের মানসিক অ্যালগরিদম

ধাপ ১: শব্দটি ভাঙা যায় কি? না গেলে বা গেলেও কাজে না লাগলে রূঢ়ির দিকে যান

ধাপ ২: ভাঙা অংশের অর্থ থেকে মোট অর্থ স্পষ্ট হয় কি? হলে যৌগিকের দিকে যান

ধাপ ৩: স্পষ্ট হলেও শব্দটি কি বিশেষ কোনো পরিচিত অর্থে স্থির? হলে যোগরূঢ়

৯.১ স্মারক সূত্র

অংশ-অর্থ বজায় = যৌগিক

অংশ-অর্থ অকার্যকর = রূঢ়ি

অংশ-অর্থ আছে, কিন্তু বিশেষ অর্থে বাঁধা = যোগরূঢ়

১০. পরীক্ষোপযোগী বৃহৎ উদাহরণভান্ডার

১০.১ উচ্চপ্রচলিত যৌগিক শব্দের তালিকা

শব্দ

শ্রেণি

মাতৃভাষা

যৌগিক

জন্মভূমি

যৌগিক

রাষ্ট্রভাষা

যৌগিক

কর্মক্ষেত্র

যৌগিক

শ্রেণিকক্ষ

যৌগিক

পরীক্ষাকক্ষ

যৌগিক

জলপাত্র

যৌগিক

হাতপাখা

যৌগিক

হাতঘড়ি

যৌগিক

গৃহকর্ম

যৌগিক

গ্রামবাসী

যৌগিক

পথচারী

যৌগিক

রাজপথ

যৌগিক

ভাষাবিজ্ঞান

যৌগিক

মনোবিজ্ঞান

যৌগিক

রক্তচাপ

যৌগিক

লোকসাহিত্য

যৌগিক

কৃষিজমি

যৌগিক

জীবনসংগ্রাম

যৌগিক

দেশপ্রেম

যৌগিক

ফলমূল

যৌগিক

ঘরবাড়ি

যৌগিক

রাতদিন

যৌগিক

দেশবিদেশ

যৌগিক

১০.২ উচ্চপ্রচলিত রূঢ়ি শব্দের তালিকা

শব্দ

শ্রেণি

নদী

রূঢ়ি

পাহাড়

রূঢ়ি

আকাশ

রূঢ়ি

সাগর

রূঢ়ি

বন

রূঢ়ি

মানুষ

রূঢ়ি

ঘোড়া

রূঢ়ি

পাখি

রূঢ়ি

কাগজ

রূঢ়ি

কলম

রূঢ়ি

চাবি

রূঢ়ি

দরজা

রূঢ়ি

কোকিল

রূঢ়ি

অশ্ব

রূঢ়ি

কুশল

রূঢ়ি

কমল

রূঢ়ি

শহর

রূঢ়ি

বাজার

রূঢ়ি

স্কুল

রূঢ়ি

অফিস

রূঢ়ি

১০.৩ উচ্চপ্রচলিত যোগরূঢ় শব্দের তালিকা

শব্দ

শ্রেণি

পঙ্কজ

যোগরূঢ়

অম্বুজ

যোগরূঢ়

বারিজ

যোগরূঢ়

সরোজ

যোগরূঢ়

দিবাকর

যোগরূঢ়

শশধর

যোগরূঢ়

মৃগাঙ্ক

যোগরূঢ়

নিশাকর

যোগরূঢ়

জলধর

যোগরূঢ়

নীরদ

যোগরূঢ়

হিমালয়

যোগরূঢ়

রজনীগন্ধা

যোগরূঢ়

ত্রিলোচন

যোগরূঢ়

চতুরানন

যোগরূঢ়

লম্বোদর

যোগরূঢ়

দশানন

যোগরূঢ়

গিরিজা

যোগরূঢ়

পীতাম্বর

যোগরূঢ়

চক্রপাণি

যোগরূঢ়

জনকনন্দিনী

যোগরূঢ়

রাজহাঁস

যোগরূঢ়

নীলকণ্ঠ

যোগরূঢ়

ধনঞ্জয়

যোগরূঢ়

ঘনশ্যাম

যোগরূঢ়

১১. অনুশীলনী: শ্রেণি নির্ধারণ

১১.১ নিজে চেষ্টা করুন

ক্রম

শব্দ

শ্রেণি লিখুন

মাতৃভূমি

______

আকাশ

______

পঙ্কজ

______

হাতঘড়ি

______

জলধর

______

কাগজ

______

রাজপথ

______

ত্রিলোচন

______

রাতদিন

______

১০

দশানন

______

১১

নদী

______

১২

রাষ্ট্রভাষা

______

. সংক্ষিপ্ত সারাংশ

যৌগিক শব্দে গঠনাংশের অর্থ থেকে মোট অর্থ সহজে পাওয়া যায়।

রূঢ়ি শব্দে প্রচলিত অর্থই মুখ্য; ব্যুৎপত্তি বর্তমান ভাষাবোধে কার্যকর নয়।

যোগরূঢ় শব্দে ব্যুৎপত্তি আছে, কিন্তু ব্যবহারিক ভাষায় তা বিশেষ একটি অর্থে স্থির।

সমাস ও অর্থশ্রেণি এক নয়; সমাসবদ্ধ শব্দও যোগরূঢ় হতে পারে।

প্রসঙ্গ বিচার না করলে “নীলকণ্ঠ”, “রাজহাঁস” ইত্যাদি শব্দে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে

. শেষ কথা

এই টপিকের সাফল্যের চাবিকাঠি হলো অতি বেশি মুখস্থ না করে অর্থের যুক্তি ধরতে শেখা। প্রথমে শব্দটি ভাঙুন, তারপর প্রচলিত অর্থ দেখুন, শেষে যাচাই করুন শব্দটি বিশেষ অর্থে স্থির হয়েছে কি না। এভাবে বিচার করতে পারলে যৌগিক, রূঢ়িযোগরূঢ় এই তিন শ্রেণি খুব সহজ হয়ে যাবে।

ভাষার সৌন্দর্যও এখানেই: কোনো শব্দ সরাসরি অর্থ দেয়, কোনো শব্দ বহুদিনের ব্যবহারে নিজস্ব স্বরূপ পায়, আবার কোনো শব্দ ব্যুৎপত্তি থেকে উঠে এসে বিশেষ সাংস্কৃতিক অর্থে দীপ্যমান হয়। তাই ব্যাকরণ পড়ার এই অধ্যায়টি শুধু পরীক্ষার জন্য নয়; ভাষা-সাহিত্য বোঝার জন্যও অত্যন্ত মূল্যবান।

Review this chapter

You Can Also Read

Chapters closely related to the one you are reading now.

মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ

No reviews
0 students
Read chapter

বিদেশি শব্দ

No reviews
0 students
Read chapter

Most Read by Students

Popular picks getting the strongest student traffic right now.

বাংলা ভাষার রীতি

No reviews
1 student
Read chapter

অসহযোগ আন্দোলন (মার্চ ১৯৭১)

No reviews
1 student
Read chapter

নদী, সেতু, পাহাড়, দ্বীপ, বন, সমুদ্রবন্দর

No reviews
1 student
Read chapter

Others Who Read This Also Read

Behavior-based suggestions from student reading patterns where available.

মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ

No reviews
0 students
Read chapter

বিদেশি শব্দ

No reviews
0 students
Read chapter

Best Reviewed

Chapters earning the strongest student feedback.

মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ

No reviews
0 students
Read chapter

বিদেশি শব্দ

No reviews
0 students
Read chapter

Course Suggestions

Want a more guided path after this chapter? These courses are the closest fit.

Browse all courses
Best match৳1,999

Bangla

Bangla Language Mastery

A structured Bangla Language path to continue after this chapter.

6 lessons8.5h4.9 (186)1.3K students

By Sadia Rahman

View course
Good fit৳2,999

Platform Building

Teacher Marketplace Blueprint

A structured Bangla Language path to continue after this chapter.

5 lessons6.8h4.9 (28)410 students

By Sadia Rahman

View course
FreeFree

English

Admission English Playbook

Free guided course with lessons you can jump into anytime.

4 lessons4.2h4.8 (91)2.8K students

By Rayan Akter

View course