বিশেষণ

Chapter Activity

Rating
New / 5
Reviews
0
Read Sessions
0
Readers
0

বিশেষণ

১. বিশেষণ: ধারণা ও মৌলিক সংজ্ঞা

যে পদ বিশেষ্য বা সর্বনামের গুণ, দোষ, অবস্থা, রং, আকার, সংখ্যা, পরিমাণ, নির্দেশ, নির্বাচন, প্রশ্ন, তুলনা কিংবা অন্য কোনো বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ বলা হয়। সহজ করে বললে, বিশেষণ হলো এমন একটি পদ যা কোনো নামধারী বস্তুকে আরও নির্দিষ্ট, স্পষ্ট, সীমিত বা চিত্রময় করে তোলে। “ফুল” বললে একটি সাধারণ ধারণা পাওয়া যায়; কিন্তু “লাল ফুল”, “সুগন্ধি ফুল”, “তিনটি ফুল”, “এই ফুল”, “কোন ফুল” বললে শব্দগুচ্ছটি অনেক বেশি নির্দিষ্ট হয়ে ওঠে।

বিশেষণ বাংলা বাক্যে শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না; এটি অর্থের ক্ষেত্রও সংকুচিত বা বিস্তৃত করে। “ছাত্র” একটি সাধারণ বিশেষ্য; কিন্তু “মেধাবী ছাত্র”, “দুর্বল ছাত্র”, “প্রথম ছাত্র”, “এই ছাত্র”, “কয়েকজন ছাত্র - প্রতিটি ক্ষেত্রে ছাত্রদের আলাদা আলাদা উপগোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। ফলে বিশেষণ ভাষায় বাছাই, নির্দিষ্টকরণ এবং ভাবপ্রকাশের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী উপায়।


মনে রাখার শর্টকাট


বিশেষ্য নাম জানায়, আর বিশেষণ সেই নামকে চিহ্নিত, সীমিত, নির্দিষ্ট বা বর্ণিত করে। তাই কোনো শব্দকে বিশেষণ বলতে হলে দেখতে হবে - ওটি কি বিশেষ্য/সর্বনামের বৈশিষ্ট্য জানাচ্ছে?

১.১ ব্যাকরণগতভাবে বিশেষণের প্রয়োজনীয়তা

বিশেষণ বিশেষ্যকে নির্দিষ্ট করে: “বই” থেকে “পুরোনো বই”, “এই বই”, “দুটি বই”।

বিশেষণ অর্থের ভিন্নতা সৃষ্টি করে: “মানুষ” ও “সৎ মানুষ” এক নয়; “খবর” ও “মিথ্যা খবর” এক নয়।

রচনা ও বর্ণনায় বিশেষণ চিত্রময়তা আনে: “নদী” থেকে “প্রশস্ত নীল নদী”।

তর্ক, বিশ্লেষণ ও একাডেমিক লেখায় বিশেষণ সূক্ষ্মতা আনে: “সম্ভব ফল”, “প্রধান কারণ”, “আংশিক সত্য”, “পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা”।

কাব্যভাষা ও অলংকারে বিশেষণ আবেগ ও বোধকে তীব্র করে: “নিভৃত নীলিমা”, “অতল অন্ধকার”, “অবিরাম বৃষ্টি”।

১.২ বিশেষণ চেনার প্রাথমিক লক্ষণ

কোনো শব্দ যদিকেমন”, “কত”, “কটি”, “কোন”, “কতটা”, “কততম”, “কী রকমইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর দেয়, তবে সেটি অনেক সময় বিশেষণ হয়

শব্দটি যদি বিশেষ্যের আগে বসে তাকে বর্ণনা করে, বিশেষণ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল যেমন: “সুন্দর বাড়ি”, “বড় গাছ”, “দশজন ছাত্র

শব্দটি যদি বিধেয়রূপে বসে কর্তা বা উদ্দেশ্যের বৈশিষ্ট্য জানায়, তবু সেটি বিশেষণ হতে পারে যেমন: “আকাশ নীল”, “ছেলেটি ক্লান্ত”, “বইটি নতুন

যে শব্দটি বিশেষ্যের পরিসর সীমিত করে, যেমনএই”, “সেই”, “কোনো”, “প্রত্যেক”, “সব”, “কয়েক”, সেগুলোর অনেকগুলোই বিশেষণধর্মী ব্যবহারে আসে

একই শব্দ কখনো বিশেষণ, কখনো ক্রিয়াবিশেষণ, কখনো সর্বনামও হতে পারে; তাই শুধু শব্দ নয়, বাক্যে তার কাজও দেখতে হবে

২. বিশেষণের প্রধান বৈশিষ্ট্য

বাংলা বিশেষণের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো - এটি সাধারণত বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে থেকে তার সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য দেয়। বাংলা ভাষায় বিশেষণ অনেকাংশে অব্যয়ধর্মী; অর্থাৎ লিঙ্গ, পুরুষ, বচন বা কারকে ইংরেজির মতো সাধারণত এর রূপ বদলায় না। “ভালো ছেলে”, “ভালো মেয়ে”, “ভালো মানুষ”, “ভালো বই - সব ক্ষেত্রেইভালোএকই থাকে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, বাংলা বিশেষণ শুধু গুণ প্রকাশ করে না; সংখ্যা, পরিমাণ, নির্দেশ, নির্বাচন, প্রশ্ন, তুলনা, উৎপত্তি, উপাদান, অবস্থা, উদ্দেশ্য, প্রবণতা - এসবও প্রকাশ করতে পারে। তাই “সুন্দর” যেমন বিশেষণ, তেমনি “তিন”, “এই”, “কিছু”, “কোন”, “বাংলাদেশি”, “ভাঙা”, “চলমান”, “আনন্দময়” প্রভৃতিও বিশেষণধর্মী ব্যবহারে আসতে পারে।


বিষয়


বিশেষণের আচরণ


উদাহরণ


কাজ


বিশেষ্য/সর্বনামের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ


শান্ত ছেলে, ভাঙা ঘর, তিনটি কলম


অবস্থান


বিশেষ্যের আগে বা বিধেয়রূপে


নীল আকাশ / আকাশ নীল


রূপ


বাংলায় সাধারণত অপরিবর্তিত


ভালো মানুষ, ভালো বই, ভালো মেয়েরা


পরিসর


গুণ ছাড়াও সংখ্যা, পরিমাণ, নির্দেশ ইত্যাদি


এই বই, কিছু জল, প্রথম স্থান


প্রসঙ্গভেদ


একই শব্দ ভিন্ন পদ হতে পারে


দ্রুত গাড়ি / দ্রুত চলে

৩. বিশেষণের প্রচলিত প্রকারভেদ

বিভিন্ন ব্যাকরণগ্রন্থে বিশেষণের শ্রেণিবিভাগে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। কোথাও গুণবাচক, সংখ্যাবাচক, পরিমাণবাচক, নির্দেশক, প্রশ্নবাচক - এই পাঁচ-ছয়টি ধরনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়; কোথাও আবার অবস্থাবাচক, সর্বনামীয়, উপাদানবাচক, কৃদন্ত, সম্বন্ধবাচক ইত্যাদিকেও আলাদা উপশ্রেণি হিসেবে আলোচনা করা হয়। পরীক্ষার সুবিধার জন্য এখানে সবচেয়ে প্রচলিত ও ব্যবহারিক শ্রেণিবিন্যাস একত্রে সাজানো হলো।


প্রকার


কী প্রকাশ করে


উদাহরণ


গুণবাচক


গুণ, দোষ, রং, আকার, স্বভাব, প্রকৃতি


ভালো, মিষ্টি, লাল, গোল, সাহসী


অবস্থাবাচক


অবস্থা, ভাঙন, পূর্ণতা, ক্লান্তি, প্রস্তুতি


ভাঙা, খালি, ভর্তি, জাগ্রত, অসুস্থ


পরিমাণবাচক


পরিমাণ বা মাত্রা


অনেক, অল্প, সামান্য, যথেষ্ট, পুরো


সংখ্যাবাচক


গণনা, ক্রম, সংখ্যা-নির্দেশ


এক, দুই, দশ, প্রথম, তৃতীয়


নির্দেশক


চিহ্নিত/নির্দেশ করে


এই, সেই, ওই, উক্ত, উভয়


প্রশ্নবাচক


জিজ্ঞাসা বা নির্বাচন


কোন, কেমন, কত, কটি, কততম


সর্বনামীয়


সর্বনামজাত নির্দিষ্টকরণ


প্রত্যেক, কোনো, সকল, যে-কোনো


কৃদন্ত/ক্রিয়াজাত


ক্রিয়ামূল থেকে গঠিত বিশেষণ


ভাঙা, লেখা, চলমান, করণীয়

৩.১ গুণবাচক বিশেষণ

যে বিশেষণ কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা ধারণার গুণ, দোষ, প্রকৃতি, স্বভাব, রং, রূপ, আকৃতি, স্বাদ, গন্ধ, তাপ, নৈতিকতা বা নান্দনিকতা প্রকাশ করে, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে। এটি সবচেয়ে পরিচিত ও বহুল ব্যবহৃত বিশেষণধর্ম। “সুন্দর”, “ভালো”, “দয়ালু”, “বুদ্ধিমান”, “মিষ্টি”, “কঠিন”, “মসৃণ”, “প্রশস্ত”, “নীল”, “গোল”, “তীক্ষ্ণ”, “কর্কশ - সবই গুণবাচক

রংবাচক: লাল, নীল, সাদা, কালো, সবুজ, হলুদ, ধূসর।

আকৃতিবাচক: গোল, লম্বা, খাটো, মোটা, সরু, চওড়া, বাঁকা।

স্বভাববাচক: শান্ত, রাগী, ভদ্র, দুরন্ত, নম্র, ধৈর্যশীল।

রুচিবাচক/স্বাদবাচক: মিষ্টি, টক, তিতা, ঝাল, লবণাক্ত।

নৈতিক গুণ/দোষ: সৎ, অসৎ, ন্যায্য, অন্যায়, কৃপণ, উদার।

উদাহরণ: “সৎ মানুষ”, “মিষ্টি আম”, “নীল আকাশ”, “সরু রাস্তা”, “উদার মন”, “কঠিন প্রশ্ন”, “নরম বালিশ”, “দীর্ঘ বক্তব্য”, “ভদ্র আচরণ”।

৩.২ অবস্থাবাচক বিশেষণ

যে বিশেষণ গুণের চেয়ে বেশি করে কোনো কিছুর বর্তমান অবস্থা, প্রস্তুতি, পূর্ণতা, ভাঙন, ক্লান্তি, স্থিতি বা কার্যগত পরিস্থিতি বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলা হয়। “ভাঙা”, “পোড়া”, “জাগ্রত”, “বন্ধ”, “খোলা”, “অসুস্থ”, “ক্লান্ত”, “পূর্ণ”, “খালি”, “বদ্ধ”, “স্থির”, “চলমান - এসব পদ গুণের সঙ্গে অবস্থা-অর্থও বহন করে।

উদাহরণ: “ভাঙা সেতু”, “বন্ধ দরজা”, “খোলা জানালা”, “পূর্ণ পাত্র”, “খালি ঘর”, “অসুস্থ রোগী”, “ক্লান্ত পথিক”, “জাগ্রত বিবেক”, “চলমান প্রকল্প”। অনেক সময় পরীক্ষায় গুণবাচক ও অবস্থাবাচকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়; “সুন্দর” গুণ প্রকাশ করে, কিন্তু “ভাঙা” অবস্থা প্রকাশ করে।

৩.৩ পরিমাণবাচক বিশেষণ

যে বিশেষণ সংখ্যা স্পষ্ট না করে কেবল পরিমাণ বা মাত্রা বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলা হয়। এগুলো গণনাযোগ্য বা অগণনীয় উভয় ধরনের বিশেষ্যের সঙ্গেই আসতে পারে। যেমন: “অনেক জল”, “অল্প সময়”, “সামান্য আশা”, “যথেষ্ট টাকা”, “পুরো বিষয়”, “সমগ্র দেশ”, “অল্পসংখ্যক লোক”, “বেশি কাজ”।

প্রচলিত উদাহরণ: অনেক, অল্প, বেশি, কম, সামান্য, যথেষ্ট, পুরো, সমগ্র, বিপুল, প্রভূত, কিছুটা।

“কতটুকু?” বা “কতখানি?” প্রশ্নের উত্তর হলে শব্দটি প্রায়ই পরিমাণবাচক হয়।

“কয়েক” শব্দটি প্রসঙ্গভেদে অনির্দিষ্ট সংখ্যাবাচক হিসেবেও ধরা হয়; তাই পাঠ্যভেদে ভিন্নতা দেখা যায়।

৩.৪ সংখ্যাবাচক বিশেষণ

যে বিশেষণ নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্ট সংখ্যা, ক্রম, পুনরাবৃত্তি বা গণনা-সম্পর্কিত ধারণা প্রকাশ করে, তাকে সংখ্যাবাচক বিশেষণ বলে। “এক”, “দুই”, “তিন”, “দশ”, “শত”, “প্রথম”, “দ্বিতীয়”, “তৃতীয়”, “একবার”, “দ্বিগুণ”, “কয়েক”, “অনেকগুলো - এসব শব্দ সংখ্যাবাচক অর্থ বহন করতে পারে।


উপধরন


ব্যাখ্যা


উদাহরণ


নির্দিষ্ট সংখ্যাবাচক


নির্দিষ্ট সংখ্যা বোঝায়


এক, দুই, দশ, পঞ্চাশ, শত


অনির্দিষ্ট সংখ্যাবাচক


সংখ্যা ধারণামাত্র, নির্দিষ্ট নয়


কয়েক, অনেক, কিছু, অল্পকিছু


ক্রমবাচক


ক্রম বা অবস্থান বোঝায়


প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, শেষ, নবম


গুণন/বহুগুণ


গুণ বা মাত্রা বৃদ্ধি বোঝায়


দ্বিগুণ, তিনগুণ, বহুগুণ


বণ্টনমূলক


এক এক করে বণ্টনের ধারণা


প্রতি দুইজন, প্রত্যেক তিনটি দলে

মনে রাখবেন: “অনেক” শব্দটি কখনো পরিমাণবাচক, কখনো অনির্দিষ্ট সংখ্যাবাচক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। “অনেক মানুষ” বললে সংখ্যা-ইঙ্গিত আছে, আবার “অনেক কষ্ট” বললে তা স্পষ্টত পরিমাণ। তাই প্রসঙ্গভেদ গুরুত্বপূর্ণ।

৩.৫ নির্দেশক বিশেষণ

যে বিশেষণ কোনো বিশেষ্যকে চিহ্নিত বা নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক বিশেষণ বলে। “এই বই”, “সেই মানুষ”, “ওই বাড়ি”, “ঐ দিন”, “উক্ত প্রস্তাব”, “উভয় পক্ষ - এসব ক্ষেত্রে শব্দগুলো বিশেষ্যকে আঙুল তুলে দেখানোর মতো নির্দিষ্ট করছে।

একই শব্দ সর্বনামও হতে পারে। যেমন: “এই বইটি আমার - এখানেএইবিশেষণ; কিন্তুএটি আমার - এখানেএটিসর্বনাম। তাই বিশেষ্য আছে কি নেই, সেটি দেখলেই পার্থক্য স্পষ্ট হয়।

৩.৬ প্রশ্নবাচক বিশেষণ

যে বিশেষণ প্রশ্নের ভঙ্গিতে বিশেষ্যকে নির্দিষ্ট করে, তাকে প্রশ্নবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: “কোন বই?”, “কেমন মানুষ?”, “কত টাকা?”, “কটি প্রশ্ন?”, “কততম অধ্যায়?”। এগুলো মূলত জিজ্ঞাসা বা নির্বাচন বোঝায়।

উদাহরণ: “কোন রাস্তা দিয়ে যাব?”, “কেমন ফল চাও?”, “কতজন ছাত্র এসেছে?”, “কততম প্রশ্নের উত্তর দেবে?”, “কোন দেশের রাজধানী ঢাকা?”।

৩.৭ সর্বনামীয় বিশেষণ

সর্বনামজাত কিছু শব্দ বিশেষ্যের আগে বসে বিশেষণসুলভ কাজ করে; এগুলোকে অনেক ব্যাকরণে সর্বনামীয় বিশেষণ বলা হয়। যেমন: “প্রত্যেক ছাত্র”, “সকল মানুষ”, “কোনো সমস্যা”, “যে-কোনো বই”, “প্রতিটি ঘর”, “অনেকেই নয়, কয়েকজন মানুষ”, “এইসব কথা”।

এখানে “প্রত্যেক”, “সকল”, “কোনো”, “প্রতিটি”, “যে-কোনো - এগুলো নিজে নাম নয়; বরং নামকে সীমিত ও নির্দিষ্ট করছে। তাই এগুলোকে বিশেষণধর্মী ব্যবহার বলাই সুবিধাজনক।

৩.৮ কৃদন্ত বা ক্রিয়াজাত বিশেষণ

যে বিশেষণ ক্রিয়ামূল, ধাতু বা ক্রিয়াপদ থেকে গঠিত হয়ে কোনো বিশেষ্যের অবস্থা, সম্পন্নতা, চলমানতা, কর্তব্য বা উপযোগিতা বোঝায়, তাকে কৃদন্ত বা ক্রিয়াজাত বিশেষণ বলা হয়। যেমন: “লেখা খাতা”, “ভাঙা চেয়ার”, “চলমান কাজ”, “করণীয় পদক্ষেপ”, “জ্বলন্ত আগুন”, “পড়ন্ত বিকেল”, “আসন্ন পরীক্ষা”।

এই শ্রেণিটি পরীক্ষায় খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলোকে অনেকেই ক্রিয়া ভেবে ভুল করেন। “চলমান প্রকল্প” বাক্যে “চলমান” ক্রিয়া নয়; এটি প্রকল্পের অবস্থা জানানো একটি বিশেষণ। একইভাবে “করণীয় কাজ”, “করার মতো বিষয়”, “পঠিত অংশ”, “অপ্রকাশিত ফলাফল - সবই বিশেষণধর্মী রূপ

৪. রূপ/গঠনভিত্তিক বিশেষণের ভেদ

অর্থভিত্তিক শ্রেণিবিভাগের পাশাপাশি বিশেষণকে রূপ বা গঠন অনুযায়ীও ভাগ করা যায়। এটি বিশেষত শব্দগঠন, প্রত্যয়, সমাস, কৃদন্তরূপ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার শব্দবিশ্লেষণে খুব উপকারী।

৪.১ মৌলিক বিশেষণ

যে বিশেষণকে আর সহজতর অংশে ভাগ করে তার বিশেষণত্ব ব্যাখ্যা করা যায় না, তাকে মৌলিক বিশেষণ বলে। যেমন: ভালো, মন্দ, লাল, নীল, বড়, ছোট, মোটা, সরু, নতুন, পুরোনো, খাঁটি, মিঠে, কাঁচা, পাকা। এরা ভাষায় আদিগত বা প্রতিষ্ঠিত বিশেষণরূপে ব্যবহৃত হয়।

৪.২ সাধিত বিশেষণ

যে বিশেষণ অন্য কোনো মূল শব্দের সঙ্গে প্রত্যয় বা প্রত্যয়সদৃশ অংশ যুক্ত হয়ে গঠিত হয়, তাকে সাধিত বিশেষণ বলে। যেমন: “মানবিক” (মানব+ইক), “সাহসী” (সাহস+ী), “আনন্দময়” (আনন্দ+ময়), “দুঃখী”, “দয়ালু”, “শিক্ষিত”, “উদ্দেশ্যপূর্ণ”, “রসযুক্ত”, “কাঁটাহীন”, “কর্মঠ”, “সতর্কতামূলক”, “অর্থনৈতিক” ইত্যাদি।

৪.৩ সমাসবদ্ধ বা যৌগিক বিশেষণ

দুটি বা ততোধিক শব্দের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষণকে সমাসবদ্ধ বা যৌগিক বিশেষণ বলা যায়। যেমন: স্বল্পভাষী, দূরদর্শী, হৃদয়বান, দয়াশীল, অল্পবয়সী, বহুমুখী, দেশপ্রেমিক, সুদূরপ্রসারী, রক্তিম-লাল, মনোমুগ্ধকর, শ্বেতশুভ্র। এসব বিশেষণ অর্থে ঘনীভূত, সংক্ষিপ্ত এবং শৈল্পিক।

৪.৪ পুনরুক্ত বা দ্বিরুক্ত বিশেষণ

বাংলা ভাষায় ধ্বনি, আবেগ বা চিত্রকল্প জোরালো করতে অনেক বিশেষণ পুনরুক্ত রূপে ব্যবহৃত হয়। যেমন: টুকটুকে লাল, ঝকঝকে পরিষ্কার, চিকচিকে মসৃণ, ছোটোখাটো, নরম-সরম, তাজা-তাজা, কচিকাঁচা, ফর্সাফর্সা, ঠাণ্ডা-ঠাণ্ডা। এদের অনেকগুলো কথ্যভাষায় বেশি, তবে সাহিত্যেও ব্যবহার আছে।


গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা


সব দ্বিরুক্ত শব্দই বিশেষণ নয়, এবং সব যৌগিক শব্দও বিশেষণ নয়। তাই শব্দের গঠন দেখে নয়, বাক্যে তার কাজ দেখে সিদ্ধান্ত নিন।

৫. কোন কোন উৎস থেকে বিশেষণ গঠিত হয়

বাংলা ভাষায় বিশেষণ নানা উৎস থেকে গঠিত হতে পারে। কখনো মূল বিশেষ্য থেকে, কখনো ক্রিয়া থেকে, কখনো সর্বনামজাত শব্দ থেকে, কখনো সংস্কৃত প্রত্যয়যোগে, কখনো দেশি-তদ্ভব রূপে, কখনো আরবি-ফারসি বা ইংরেজি উৎসের শব্দ থেকেও বিশেষণ তৈরি হয়। এই অংশটি শব্দগঠনভিত্তিক এমসিকিউ ও ব্যাকরণ-ব্যাখ্যার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।


উৎস


গঠনের ধরন


উদাহরণ


বিশেষ্য থেকে


বিশেষ্য + প্রত্যয়


মানবিক, পারিবারিক, সাহিত্যিক, রূপবান, হৃদয়হীন


ক্রিয়া/ধাতু থেকে


ক্রিয়ামূল + কৃদন্ত/প্রত্যয়


লেখা, ভাঙা, চলমান, করণীয়, পঠিত


সর্বনামজাত


নির্দেশ/নির্বাচনমূলক


এই, সেই, কোনো, প্রত্যেক, যে-কোনো


উপাদানবাচক


উপাদান-নির্দেশ


সোনার আংটি, কাঠের টেবিল, মাটির ঘর


বিদেশি/প্রমিত ধারা


আধুনিক শব্দের গঠন


অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, ডিজিটাল, নৈতিক

৫.১ প্রচলিত প্রত্যয় ও বিশেষণ-গঠন


প্রত্যয়/শেষাংশ


অর্থ বা ইঙ্গিত


উদাহরণ


-ী / -ি


স্বভাব, গুণ, প্রবণতা


সাহসী, দুঃখী, রাগী, কর্মীসুলভ


-িক / -িক


সম্পর্ক বা বৈশিষ্ট্য


মানবিক, সাহিত্যিক, ঐতিহাসিক, পারিবারিক


-ীয় / -িয়


জাতীয়/সম্পর্কিত অর্থ


বাংলীয়, আঞ্চলিক, দৈনন্দিনীয় (সীমিত ব্যবহার)


-ময় / -ময়ী


পূর্ণতা, আবেশ, ভরপুর


আনন্দময়, সৌন্দর্যময়, করুণাময়ী


-পূর্ণ


ভরা, সম্পূর্ণ


অর্থপূর্ণ, তাৎপর্যপূর্ণ, উদ্দেশ্যপূর্ণ


-যুক্ত


সংযুক্ত, বিশিষ্ট


রসযুক্ত, যুক্তিযুক্ত, ডানাযুক্ত


-হীন


বর্জিত, অনুপস্থিত


জলহীন, নিরাশাহীন, হৃদয়হীন


-শীল


অভ্যাস, স্বভাব, অনুশীলন


পরিশ্রমশীল, দয়াশীল, কর্মশীল


-জনক / -কর


উৎপাদক বা সৃষ্টিকারী


ভয়জনক, আনন্দজনক, মনোহরকর (দুর্লভ), আকর্ষণকর


-প্রবণ


ঝোঁক বা প্রবণতা


ব্যয়প্রবণ, ক্রোধপ্রবণ, রোগপ্রবণ


-মান


চলমান বা বর্তমান অবস্থা


চলমান, বিরাজমান, বর্তমান


-যোগ্য / -নীয়


উপযোগিতা বা করণীয়তা


পাঠযোগ্য, করণীয়, গ্রহণযোগ্য


-জাত / -সংক্রান্ত


উৎপত্তি বা সংশ্লিষ্টতা


দুধজাত, ফলজাত, শিক্ষা-সংক্রান্ত

উল্লেখ্য, সব প্রত্যয় সব শব্দের সঙ্গে সমানভাবে যুক্ত হয় না। কিছু রূপ অভিধানসম্মত, কিছু রূপ প্রাতিষ্ঠানিক, কিছু রূপ প্রমিত গদ্যে সীমিত। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রচলিত ও প্রমিত উদাহরণগুলো আলাদা করে মনে রাখা নিরাপদ।

৬. বাক্যে বিশেষণের অবস্থান ও ভূমিকা

বাংলা বাক্যে বিশেষণের অবস্থান তুলনামূলকভাবে নমনীয়। তবে সবচেয়ে সাধারণ দুটি ব্যবহার হলো - (ক) বিশেষ্যের আগে বসে তাকে বিশেষিত করা এবং (খ) বিধেয়রূপে বসে কর্তা বা উদ্দেশ্যের অবস্থা/গুণ জানানো। এর বাইরে বিশেষণ পদগুচ্ছ, ক্রিয়াজাত বিশেষণ, উপপদসহ বিশেষণ ইত্যাদিও দেখা যায়।

৬.১ বিশেষ্যের পূর্বে বসা বিশেষণ

এটি বিশেষণের সর্বাধিক পরিচিত রূপ। যেমন: “সুন্দর ফুল”, “বড় মাঠ”, “এই বই”, “তিনজন ছাত্র”, “অল্প জল”, “ক্লান্ত পথিক”, “সোনার আংটি”, “ভাঙা সেতু”। এখানে বিশেষণ বিশেষ্যের আগে বসে সরাসরি তাকে নির্দিষ্ট করেছে।

৬.২ বিধেয় বিশেষণ

যখন বিশেষণ বাক্যে বিধেয় অংশে বসে কর্তা সম্পর্কে তথ্য দেয়, তখন তাকে বিধেয় বিশেষণ বলা যায়। যেমন: “আকাশ নীল”, “রাস্তা ফাঁকা”, “ছেলেটি বুদ্ধিমান”, “বইটি নতুন”, “আমরা প্রস্তুত”, “প্রকল্পটি চলমান”। এখানে বিশেষণ বিশেষ্যের আগে নেই, কিন্তু কর্তা-উদ্দেশ্যের গুণ/অবস্থা জানাচ্ছে।

৬.৩ বিশেষণপদগুচ্ছ

একটি মাত্র শব্দ নয়, কখনো পুরো পদগুচ্ছও বিশেষণসুলভ কাজ করে। যেমন: “অনেক দূরের গ্রাম”, “খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত”, “চোখে পড়ার মতো দৃশ্য”, “সব দিক থেকে গ্রহণযোগ্য পরিকল্পনা”। এখানে বিশেষণের পরিসর বাক্যাংশ পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে।

৬.৪ একাধিক বিশেষণের ব্যবহার

বাংলায় একাধিক বিশেষণ পাশাপাশি বসতে পারে: “একটি সুন্দর ছোট্ট বাড়ি”, “দীর্ঘ কঠিন পরীক্ষামূলক প্রশ্ন”, “প্রবল শীতল উত্তরী হাওয়া”, “অত্যন্ত সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ”। তবে বাংলা ভাষায় ইংরেজির মতো স্থির adjective order তত কঠোর নয়; অর্থ-স্বচ্ছতা ও স্বাভাবিক বাগ্‌ভঙ্গি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

৭. বিশেষণ, বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াবিশেষণের পার্থক্য

পরীক্ষায় প্রায়ই একই শব্দের পদভেদ জানতে চাওয়া হয়। তাই বিশেষণকে কেবল সংজ্ঞায় নয়, পার্থক্য দিয়ে বোঝা জরুরি। বিশেষ্য নামবাচক; সর্বনাম বিশেষ্যের পরিবর্তে বসে; ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া, বিশেষণ বা সমগ্র বাক্যকে বিশেষিত করে; আর বিশেষণ বিশেষ্য বা সর্বনামকে বিশেষিত করে।


পদ


কাকে বিশেষিত/প্রতিস্থাপিত করে


উদাহরণ


বিশেষ্য


নাম প্রকাশ করে


ফুল, মানুষ, নদী, বই


সর্বনাম


বিশেষ্যের বদলে বসে


সে, এটি, তারা, কেউ


বিশেষণ


বিশেষ্য বা সর্বনামের বৈশিষ্ট্য জানায়


সুন্দর ফুল, সে বুদ্ধিমান


ক্রিয়াবিশেষণ


ক্রিয়া/বিশেষণ/বাক্যকে বিশেষিত করে


দ্রুত দৌড়ায়, খুব সুন্দর, সত্যিই ভালো

৭.১ “দ্রুত” ধরনের দ্ব্যর্থক শব্দ

“দ্রুত গাড়ি” বাক্যে “দ্রুত” বিশেষণ, কারণ এটি “গাড়ি” বিশেষ্যকে বিশেষিত করছে। কিন্তু “সে দ্রুত দৌড়ায়” বাক্যে “দ্রুত” ক্রিয়াবিশেষণ, কারণ এটি “দৌড়ায়” ক্রিয়াকে বিশেষিত করছে। একইভাবে “ধীরে”, “জোরে”, “উচ্চ”, “নিম্ন” প্রভৃতি শব্দ প্রসঙ্গভেদে ভিন্ন পদে ব্যবহৃত হতে পারে।

৭.২ বিশেষণ থেকে বিশেষ্যে রূপান্তর

বাংলায় অনেক বিশেষণ বিশেষ্যরূপেও ব্যবহৃত হয়। যেমন: “ভালোকে ভালো বলো”, “ধনীর দুলাল”, “গরিবের অধিকার”, “বুড়োদের যত্ন নাও”, “সুন্দরকে ভালোবাসো”। এখানে “ভালো”, “ধনী”, “গরিব”, “বুড়ো”, “সুন্দর” প্রভৃতি মূলত বিশেষণ হলেও প্রসঙ্গে বিশেষ্যসুলভ অর্থ নিচ্ছে। পরীক্ষায় এটিকে পদান্তর বা প্রয়োগভেদ বলা যেতে পারে।

৭.৩ নির্দেশক শব্দ: বিশেষণ না সর্বনাম?

“এই ছাত্রটি মেধাবী” বাক্যে “এই” বিশেষণ; কিন্তু “এটি মেধাবী ছাত্র” বাক্যে “এটি” সর্বনাম। “কোন বইটি নেবে?” - এখানেকোনপ্রশ্নবাচক বিশেষণ; কিন্তুকোনটি নেবে?” - এখানেকোনটিসর্বনামধর্মীতাই নির্দেশক ও প্রশ্নবাচক শব্দের পদ নির্ধারণে অনুসর্গ, প্রত্যয় ও বিশেষ্যের উপস্থিতি খেয়াল করুন।

৮. বিশেষণের তুলনা বা মাত্রা

বাংলা ভাষায় ইংরেজির মতো অধিকাংশ বিশেষণের জন্য নির্দিষ্ট রূপান্তরিত degree ending নেই; সাধারণত পৃথক শব্দ বা কাঠামোর সাহায্যে তুলনা প্রকাশ করা হয়। যেমন: “বেশি”, “কম”, “অধিক”, “চেয়ে”, “অপেক্ষা”, “সবচেয়ে”, “সর্বাধিক”, “সর্বশ্রেষ্ঠ” ইত্যাদি।


ধরন


প্রকাশভঙ্গি


উদাহরণ


সমতুল্যতা


যত…তত / যেমন…তেমন / সমান


তুমি যত পরিশ্রমী, সে তত মনোযোগী


তুলনামূলক


চেয়ে, অপেক্ষা, বেশি, অধিক, কম


রহিম করিমের চেয়ে লম্বা


অতিশয়তা


সবচেয়ে, সর্বাধিক, অতি, অতিশয়


এই বইটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ


প্রমিত বিকল্প


বৃহত্তর, ক্ষুদ্রতর, উচ্চতর


উচ্চতর শিক্ষা, নিম্নতর আদালত

সতর্কতা: “সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ”, “অতি সর্বোচ্চ”, “সর্বাধিক উত্তম” ইত্যাদি প্রকাশ অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় পুনরুক্তি সৃষ্টি করে। কারণ “শ্রেষ্ঠ”, “সর্বোচ্চ”, “উত্তম” নিজেই অতিশয়তার অর্থ বহন করতে পারে। লেখায় সংযমী ও প্রমিত রূপ ব্যবহার উত্তম।

৯. উপাদানবাচক, সম্বন্ধবাচক ও বৈশিষ্ট্যসূচক রূপ

বাংলা ভাষায় কিছু রূপ সরাসরি প্রচলিত বিশেষণ না হলেও বিশেষণসুলভ কাজ করে। যেমন “কাঠের টেবিল”, “মাটির ঘর”, “সোনার আংটি”, “লোহার গেট”, “শীতের সকাল”, “গ্রামের রাস্তা”, “শিশুতোষ বই”, “সরকারি সিদ্ধান্ত”, “বাংলাদেশি পণ্য”। এগুলো কখনো উপাদান, কখনো সম্পর্ক, কখনো উৎপত্তি, কখনো উদ্দেশ্য বা প্রতিষ্ঠানগত পরিচয় জানায়।

এখানে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য মনে রাখা দরকার। “রহিমের বই” সব সময় বিশেষণ নয়; অনেক ক্ষেত্রে এটি কেবল অধিকারের সম্পর্ক। কিন্তু “কাঠের চামচ”, “সরকারি কর্মকর্তা”, “শিক্ষাবিষয়ক নীতি”, “বাংলাদেশি দল - এগুলো বিশেষণধর্মীভাবে বিশেষ্যকে শ্রেণিবদ্ধ করছে। তাই অর্থের প্রকৃতি দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

১০. উদাহরণভাণ্ডার: ধরনের ভিত্তিতে বিশেষণ

১০.১ গুণবাচক উদাহরণসমূহ

ভালো, মন্দ, সুন্দর, কুৎসিত, সৎ, অসৎ, ভদ্র, অভদ্র, নরম, শক্ত, ঠাণ্ডা, উষ্ণ, মিষ্টি, তিতা, কর্কশ, কোমল, প্রশস্ত, সরু, উঁচু, নিচু, গোল, বাঁকা, বুদ্ধিমান, মূর্খ, উদার, কৃপণ, সাহসী, ভীরু, স্পষ্ট, অস্পষ্ট, শুদ্ধ, অশুদ্ধ, শান্ত, চঞ্চল, দীপ্ত, মলিন, ঝকঝকে, নির্মল।

১০.২ অবস্থাবাচক উদাহরণসমূহ

ভাঙা, পোড়া, গড়া, গুটানো, খোলা, বন্ধ, প্রস্তুত, অসম্পূর্ণ, পূর্ণ, খালি, ক্লান্ত, জাগ্রত, নিস্তেজ, স্থির, চলমান, আসন্ন, বিলুপ্ত, অবশিষ্ট, পঠিত, লিখিত, ঘোষিত, গোপন, লুকানো, রাখা, বসানো, জমে থাকা, শুকনো, ভেজা।

১০.৩ পরিমাণবাচক ও সংখ্যাবাচক উদাহরণসমূহ

অনেক, অল্প, বেশি, কম, সামান্য, যথেষ্ট, প্রভূত, বিপুল, পুরো, সমগ্র, কিছু, কয়েক, এক, দুই, তিন, দশ, শত, সহস্র, প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, শেষ, দ্বিগুণ, বহুগুণ, প্রতিটি, প্রত্যেক, উভয়, একাধিক।

১০.৪ নির্দেশক, প্রশ্নবাচক ও সর্বনামীয় উদাহরণসমূহ

এই, সেই, ওই, ঐ, উক্ত, উভয়, প্রতিটি, প্রত্যেক, কোনো, কোনো কোনো, যে-কোনো, সকল, সমুদয়, কোন, কেমন, কত, কটি, কততম, কী ধরনের, কোন্‌টি (সর্বনামীয় ব্যবহারে ভিন্ন)।

১০.৫ বাক্যভিত্তিক উদাহরণ

সৎ মানুষ কখনো প্রতারণা করে না।

এই পুরোনো ঘড়িটি আমার দাদার।

তিনজন মেধাবী ছাত্র পুরস্কার পেয়েছে।

অল্প সময়ের মধ্যে কঠিন কাজটি শেষ করতে হবে।

ক্লান্ত পথিক ছায়াঘেরা গাছতলায় বসল।

চলমান প্রকল্পের আর্থিক অবস্থা স্থিতিশীল নয়।

কোন প্রশ্নটি সবচেয়ে জটিল বলে মনে হয়েছে?

প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব আছে।

মাটির ঘর হলেও বাড়িটি খুব শীতল ও আরামদায়ক।

তার কণ্ঠ আজ অস্বাভাবিক কর্কশ শোনাচ্ছে।

এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য নয়।

সর্বোচ্চ আদালত একটি ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে।

১১. প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিশেষণ থেকে সাধারণ ফাঁদ

“দ্রুত”, “ধীরে”, “উচ্চ”, “নিম্ন” ইত্যাদি শব্দকে প্রসঙ্গ ছাড়া পদভেদ করা ভুল।

“এই”, “সেই”, “কোন” ইত্যাদি কখন বিশেষণ আর কখন সর্বনাম - এটি আলাদা করে বুঝতে হবে।

“অনেক”, “কয়েক”, “কিছু” শব্দকে কখনো পরিমাণবাচক, কখনো অনির্দিষ্ট সংখ্যাবাচক হিসেবে দেখা হয়; পাঠ্যভেদ মনে রাখুন।

“ভাঙা”, “চলমান”, “করণীয়”, “লিখিত” শব্দগুলোকে ক্রিয়া ভেবে ভুল করা হয়; এগুলো অনেক ক্ষেত্রে কৃদন্ত বিশেষণ।

“সোনার”, “কাঠের”, “মাটির”, “সরকারি”, “বাংলাদেশি” প্রভৃতি শব্দের বিশেষণধর্মী ব্যবহার আলাদা করে চিনুন।

“সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ”, “সর্বাধিক উত্তম” ধরনের অপ্রয়োজনীয় দ্বিত্ব থেকে সাবধান থাকুন।

বিশেষণ থেকে বিশেষ্যে রূপান্তর যেমন “গরিব”, “ভালো”, “ধনী” পরীক্ষায় পদান্তর হিসেবে আসতে পারে।

শুধু অভিধানগত অর্থ নয়; বাক্যে কী বিশেষিত হচ্ছে সেটিই শেষ বিচার।

১২. দ্রুত পুনরাবৃত্তি


যা মনে রাখবেন


সারকথা


সংজ্ঞা


বিশেষ্য বা সর্বনামের বৈশিষ্ট্য প্রকাশকারী পদই বিশেষণ।


মুখ্য কাজ


নির্দিষ্টকরণ, সীমাবদ্ধকরণ, বর্ণনা, পরিমাণ বা সংখ্যা নির্দেশ।


প্রধান ধরন


গুণবাচক, অবস্থাবাচক, পরিমাণবাচক, সংখ্যাবাচক, নির্দেশক, প্রশ্নবাচক, সর্বনামীয়, কৃদন্ত।


বিশেষ চিহ্ন


কেমন, কত, কোন, কততম, কী রকম - এসব প্রশ্নের উত্তর হতে পারে।


প্রধান বিভ্রান্তি


বিশেষণ বনাম ক্রিয়াবিশেষণ; নির্দেশক বিশেষণ বনাম সর্বনাম।


তুলনা


চেয়ে/অপেক্ষা/বেশি/সবচেয়ে/সর্বাধিক দিয়ে প্রকাশিত হয়।


পরীক্ষার কৌশল


শব্দ নয়, বাক্যে তার কাজ দেখুন।


এক লাইনের স্মারক


বিশেষণ হলো “নামের বর্ণনাকারী”; কিন্তু সেই বর্ণনা শুধু গুণ নয় - সংখ্যা, পরিমাণ, নির্দেশ, প্রশ্ন, অবস্থা, সম্পর্ক, উপাদান ও তুলনাও হতে পারে।

১৩. মতভেদ, সূক্ষ্মতা ও ভাষাগত সতর্কতা

প্রথমত, বিভিন্ন ব্যাকরণে “অনেক”, “কয়েক”, “কিছু”, “সকল”, “প্রত্যেক”, “এই” প্রভৃতি শব্দের শ্রেণিনাম ভিন্ন হতে পারে - কোথাও এগুলোকে নির্ধারকধর্মী বিশেষণ বলা হয়, কোথাও সর্বনামীয় বিশেষণ, কোথাও অনির্দিষ্ট/নির্দেশক/পরিমাণবাচক বিশেষণ। পরীক্ষায় তাই বোর্ড, সিলেবাস বা নির্দিষ্ট পাঠ্যবইয়ের রীতি জানা ভালো।

দ্বিতীয়ত, সব “-এর” রূপবিশিষ্ট পদকে সমানভাবে বিশেষণ বলা যাবে না। “কাঠের টেবিল” বিশেষণধর্মী; কিন্তু “রহিমের বই” প্রধানত অধিকারের সম্পর্ক। আবার “গ্রামের মেলা” প্রসঙ্গভেদে সম্পর্কবাচক বা বিশেষণধর্মী উভয়ভাবেই বিশ্লেষিত হতে পারে।

তৃতীয়ত, বাংলা ভাষায় অনেক বিশেষণ বাক্যে বিশেষ্যরূপে এবং অনেক বিশেষ্য বিশেষণরূপে ব্যবহৃত হয়। ভাষা একটি চলমান ব্যবস্থা; তাই কঠোর সংজ্ঞার পাশাপাশি বাস্তব ব্যবহারও মনে রাখতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় যেটি সবচেয়ে নিরাপদ নীতি - শব্দটি বাক্যে কী কাজ করছে, সেটিই আগে দেখুন।

চতুর্থত, শুদ্ধ ভাষা ব্যবহারে অপ্রয়োজনীয় বিশেষণ-ভার এড়িয়ে চলা উচিত। “সম্পূর্ণ পূর্ণ”, “অতি সর্বোচ্চ”, “সবচেয়ে উত্তম” ধরনের রূপ সবসময় শোভন নয়। একটি শক্তিশালী, যথাযথ বিশেষণ অনেক সময় একাধিক দুর্বল বিশেষণের চেয়ে ভালো।

১৪. উপসংহার

বিশেষণ বাংলা ভাষার একটি অপরিহার্য পদশ্রেণি। এটি ভাষাকে শুধু অলংকৃত করে না; চিন্তাকে নির্দিষ্ট, সূক্ষ্ম, তীক্ষ্ণ ও বোধগম্য করে। কোনো শব্দ গুণ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা, নির্দেশ, প্রশ্ন, তুলনা বা সম্পর্কের ভেতর দিয়ে বিশেষ্য বা সর্বনামকে যেভাবে সীমিত ও স্পষ্ট করে, সেখানেই বিশেষণের শক্তি। তাই বিশেষণ শিখতে হলে মুখস্থ সংজ্ঞা নয়; উদাহরণ, প্রকারভেদ, গঠন, বাক্যগত ভূমিকা এবং পদভেদের পার্থক্য - সব একসঙ্গে আয়ত্ত করতে হবে।

যদি আপনি এই অধ্যায়ের মূল অংশগুলো - সংজ্ঞা, প্রধান প্রকারভেদ, নির্দেশক ও প্রশ্নবাচক ব্যবহারের সূক্ষ্মতা, কৃদন্ত রূপ, তুলনামূলক কাঠামো এবং বিশেষণ বনাম ক্রিয়াবিশেষণের পার্থক্য - ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারেন, তবে বাংলা ব্যাকরণের বিশেষণ-সম্পর্কিত অধিকাংশ প্রশ্ন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সমাধান করতে পারবেন।

Review this chapter

You Can Also Read

Chapters closely related to the one you are reading now.

যৌগিক শব্দ, রুঢ়ি শব্দ ও যোগরুঢ় শব্দ

No reviews
0 students
Read chapter

মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ

No reviews
0 students
Read chapter

Most Read by Students

Popular picks getting the strongest student traffic right now.

বাংলা ভাষার রীতি

No reviews
1 student
Read chapter

অসহযোগ আন্দোলন (মার্চ ১৯৭১)

No reviews
1 student
Read chapter

নদী, সেতু, পাহাড়, দ্বীপ, বন, সমুদ্রবন্দর

No reviews
1 student
Read chapter

Others Who Read This Also Read

Behavior-based suggestions from student reading patterns where available.

যৌগিক শব্দ, রুঢ়ি শব্দ ও যোগরুঢ় শব্দ

No reviews
0 students
Read chapter

মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ

No reviews
0 students
Read chapter

Best Reviewed

Chapters earning the strongest student feedback.

যৌগিক শব্দ, রুঢ়ি শব্দ ও যোগরুঢ় শব্দ

No reviews
0 students
Read chapter

মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ

No reviews
0 students
Read chapter

Course Suggestions

Want a more guided path after this chapter? These courses are the closest fit.

Browse all courses
Best match৳1,999

Bangla

Bangla Language Mastery

A structured Bangla Language path to continue after this chapter.

6 lessons8.5h4.9 (186)1.3K students

By Sadia Rahman

View course
Good fit৳2,999

Platform Building

Teacher Marketplace Blueprint

A structured Bangla Language path to continue after this chapter.

5 lessons6.8h4.9 (28)410 students

By Sadia Rahman

View course
FreeFree

English

Admission English Playbook

Free guided course with lessons you can jump into anytime.

4 lessons4.2h4.8 (91)2.8K students

By Rayan Akter

View course